পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক অভিযোগ তুলে তিনটি জাতীয় কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন। একই সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনাসহ আট দফা দাবি জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন পর্যন্ত গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা।
দীপক শীলের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ। উপস্থিত ছিলেন হিল উইমেনস ফেডারেশনের সভাপতি শান্তিদেবী তঞ্চংগা, ছাত্রলীগ (জাসদ) সভাপতি গৌতম শীল ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের নেতারা।
সমাবেশে খান আসাদুজ্জামান মাসুম বলেন, রাজনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধান না করে সরকার নতুন সমস্যা তৈরি করছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত চুক্তির চেতনার পরিপন্থী।
মুক্তা বাড়ৈ বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের ২৯ বছর পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার।
বিতরণ করা প্রচারপত্রে বলা হয়, ১০ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটি গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এসব কমিটির সচিবালয়সংক্রান্ত সুবিধা ডিজিএফআইকে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এর মাধ্যমে অঞ্চলে সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব জোরদার করার চেষ্টা হচ্ছে।
সংগঠনগুলোর মতে, অতীত অভিজ্ঞতা বলে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্ব সংঘাত ও রক্তপাতই বাড়িয়েছে। বর্তমান উদ্যোগ ১৯৯৭ সালের চুক্তির লক্ষ্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
সমাবেশ থেকে আটটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো চুক্তিবিরোধী তিনটি কমিটি বাতিল, চুক্তি অনুযায়ী বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন, মন্ত্রণালয় থেকে অ-পাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী প্রত্যাহার ও উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন, সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন দ্রুত কার্যকর করা, আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং পার্বত্য অঞ্চলের সব সমস্যার সমাধানে বহুপক্ষীয় অর্থবহ সংলাপ শুরু।
রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়ে সংগঠনগুলো জানায়, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি আনতে পারে।


