আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৪৭৯ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে সফরকারীরা। এই রান তাড়া করতে নেমে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে চা বিরতি পর্যন্ত ২ উইকেট হারিয়ে ৫১ রান করেছে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য এখনো তাদের প্রয়োজন ৪২৮ রান। অন্যদিকে, ম্যাচ জিততে বাংলাদেশের প্রয়োজন আফগানিস্তানের বাকি ৮ উইকেট তুলে নেওয়া।
আফগানিস্তানের রান তাড়ার শুরুতেই আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার এবাদত হোসেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আবদুল মালিককে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন এবাদত।
এরপর উইকেটশিকারে যোগ দেন আরেক পেসার হাসান মাহমুদ। তার বলে পুল করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটনের হাতে ক্যাচ দেন শাহিদউল্লাহ। ১৯ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। এতে ২৮ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
তবে এরপর আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতাল ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের ব্যাটে ভর করে চা বিরতি পর্যন্ত আর কোনো বিপদে পড়েনি আফগানরা।
এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৭ উইকেটে ৩৭২ রানে। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড থাকায় সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের সামনে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন লিটন দাস। তিনি ১০২ রান করে সেলিমের বলে আউট হওয়ার পরপরই ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক।
এ ছাড়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮২ রান, মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে আসে ৮১ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। আফগানিস্তানের হয়ে সেলিম ও জিয়াউর রহমান নেন দুটি করে উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৩৪৬ রানের জবাবে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ নেন পাঁচ উইকেট এবং এবাদত হোসেন শিকার করেন চার উইকেট। হাসানের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিকও ছিল ইনিংসটির অন্যতম আকর্ষণ।
সব মিলিয়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে আফগানিস্তান। রহমত শাহ ও সেদিকউল্লাহ আতালের জুটি ভাঙতে পারলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য বাকি আট উইকেট তুলে নিতে চার সেশন হাতে রয়েছে শান্তর দলের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ: ৩৪৬ ও ৩৭২/৭ ডিক্লে. (লিটন ১০২, নাজমুল ৮২, মুশফিক ৮১, মিরাজ ৫২*; সেলিম ২/৬৯, জিয়াউর ২/৮৬)।
আফগানিস্তান: ২৪০ ও ৫১/২ (দ্বিতীয় ইনিংস চা বিরতি পর্যন্ত)।


