ওমরাহ পালনে ৪৫ জনের একটি দলের সঙ্গে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের হাফেজ মুফতি মো. নাসরুল্লাহ (৪৫)। তবে ধর্মীয় সফর শেষ করে আর বাড়ি ফেরা হলো না তার।
নাসরুল্লাহ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় তার মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ পরিবার। বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা তিন শিশুসন্তান।
একই দলের সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলাম। দুই পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। স্বজনেরা একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর শোক সামলানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
নিহতের ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা মো. আতিকুল্লাহ জানান, ভাইয়ের এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী ও তিন শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন পুরো পরিবার। তিনি বলেন, ‘ভাইকে হারিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। বিশেষ করে ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। এ অবস্থায় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
চার ভাইয়ের মধ্যে নাসরুল্লাহ ছিলেন তৃতীয়। তার বাবা-মা, স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ছিল পরিবার। চার ভাইয়ের সবাই কোরআনের হাফেজ। নাসরুল্লাহর বড় ছেলে জামিলের বয়স আট বছর। সে জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। যে বয়সে বাবার স্নেহ-ছায়ায় বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই বাবাকে হারাল জামিল ও তার দুই ভাইবোন।
সন্তান হারিয়ে বাকরুদ্ধ নাসরুল্লাহর বাবা মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ। ছেলের মৃত্যুর খবর কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শোকের এই সময়ে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
এদিকে, নাসরুল্লাহর পাশের বাড়ির চাচাতো ভাই দাউদুল ইসলামও হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। সন্তানের আহত হওয়ার খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তার বাবা মাওলানা মুহিবুল্লাহ। ছেলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতি মুহূর্ত দুশ্চিন্তায় কাটাচ্ছেন তিনি। সৌদি আরবে দাউদুলের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
নাসরুল্লাহর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
গত শনিবার রাতে রিয়াদ বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে দেশটির সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের এই হামলার জন্য দায়ী করেছে সৌদি জোট।
সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার বিকালে রিয়াদের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলা হয়। এতে একজন নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হন।


