চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যয়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে ‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ’ (এসডব্লিউআই) নামে নতুন একটি উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়েছে।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
উদ্যোগটির প্রথম ধাপে ২০৬টি আবেদনের মধ্য থেকে ১০ শিক্ষার্থীকে চার মাসের আবাসন বৃত্তি দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও উপউপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের। তাই তাদের আবাসন সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে একদিনে আবাসন সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য দাতা ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।
মোহাম্মদ আল-আমিন বলেন, স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভ বিপদের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। ব্যক্তিগত, দলগত, শ্রেণিভিত্তিক ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীরা যেভাবে এগিয়ে এসেছে, তা প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনটির শুভযাত্রা ঘোষণা করে মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, আজ স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ইনিশিয়েটিভের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এ উদ্যোগের উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগতভাবে এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। সামনে এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত ও বিকশিত হবে বলে আশা প্রকাশ করছি।
তিনি আরও বলেন, হয়তো আজ ১০ শিক্ষার্থীকে দিয়ে বৃত্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, কিন্তু একদিন এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক হাজার শিক্ষার্থীও উপকৃত হতে পারেন। শিক্ষার্থীরা যেন পড়াশোনার মূলধারায় থাকতে পারেন এবং আর্থিক সমস্যার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত না হয়, সেটিই মূল লক্ষ্য।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সংগঠনটি চারটি প্রধান প্রকল্প নিয়ে কাজ করবে। সেগুলো হলো–আবাসন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট, মেডিকেল সেবা ও প্রাণিসেবা।
আবাসন প্রকল্পে প্রথম ধাপে ২০৬টি আবেদনের মধ্য থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ১০ শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের চার মাসের আবাসন বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীরা যাতে নিজেদের আবাসনের ব্যবস্থা নিজেরাই করতে পারেন, সে ধরনের সহযোগিতার পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় সিভি লেখা, চাকরির আবেদন, এআই টুলের ব্যবহার ও মৌলিক কম্পিউটার দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিসিএস, আইইএলটিএস ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
মেডিকেল সেবা প্রকল্পে প্রতি মাসে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন এবং আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হবে। প্রাণিসেবা প্রকল্পে ক্যাম্পাসের কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাবার, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থা করা হবে।
উদ্যোক্তারা বলেন, ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্যেই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়েছে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তারা।


