চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয়েছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতার টাকা জমা হতে শুরু করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম-সম্পাদক সহকারী সামিউন বাসির। তিনি বলেন, ‘আমরা বেতন পেয়েছি।’
এর আগে বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বুধবার সকাল থেকে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন চুয়েট কর্মচারী সমিতির সদস্যরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের সামনে অবস্থান শুরু হয়। পরে ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও নির্দেশনার পর বেতন-ভাতা পরিশোধের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা হতে থাকে।
চুয়েটের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী রয়েছেন।
এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা বিতরণ না করতে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়াই কন্ট্রোলার কার্যালয় থেকে বেতন শিট ও চেক ব্যাংকে পাঠানোর অভিযোগে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
৬ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বেতন জমা না পড়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে বুধবার ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচির পর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়।
বেতন-ভাতা পাওয়ার পর ব্যাংকের সামনে থেকে অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে, সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। একই দাবিতে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।


