নওগাঁইয় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের প্রথম দিনেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের চালানো ১৩টি মোটরসাইকেল আটক করে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ কিশোরকে থানায় নেওয়া হলেও পরে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। কিশোর অপরাধ, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে দেশব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে নওগাঁয় সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শুক্রবার বিকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সপ্তাহব্যাপী এ বিশেষ অভিযান শুরু হয়। অভিযানের প্রথম দিনেই শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের চালানো ১৩টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা ও জরিমানা করা হয়।
এ সময় বিভিন্ন স্থান থেকে ১০ অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের মতো নওগাঁতেও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো থেকে বিরত রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে মোটরসাইকেল চালানোর সুযোগ দিলে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে, অন্যদিকে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডেও জড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, জেলার কোথাও কিশোর অপরাধ, ইভটিজিং বা কিশোর গ্যাং সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পুলিশকে জানাতে হবে। তথ্য বা ছবি পুলিশ সুপারের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ০১৩২০১২৩৫০১ অথবা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি জানান, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


