নিজ দেশ ওমানে উড়োজাহাজ চালানোয় নিষিদ্ধ ছিলেন ফ্লাই দুবাইয়ের উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করা কো-পাইলট। বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে তাকে ওমানে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ওই কো-পাইলট উগ্রপন্থী মতাদর্শ গ্রহণ করেছেন—এমন আশঙ্কায় ওমান কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগ দেয়নি। পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক উড়োজাহাজ সংস্থা ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ দেয়।
গত বুধবার ১৮২ আরোহী নিয়ে ইসরায়েলগামী ফ্লাই দুবাইয়ের একটি বিমানের কো-পাইলট ছিলেন হামাম আল হাম্মামি। দুবাই থেকে রওনা দেওয়ার কিছু পরেই বিমানটি থেকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে (এটিসি) জরুরি বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, সেটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থেকে হুট করে দুই মিনিটের মধ্যে বিমানটি ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। এতে আন্তর্জাতিক মহলে হুলস্থুল পড়ে যায়।

বিমানটি ছিনতাই কিংবা বিধ্বস্তের চেষ্টা রুখে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কো-পাইলট হাম্মামের ছুরিকাঘাতের শিকার হন পাইলট স্মিত মাছছার। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তি শেষে তিনি বিমানটি নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হন।
এই ঘটনার তদন্ত সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র শনিবার এপিকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাম্মামকে নিয়োগ দেওয়ার সময় তার অতীত সম্পর্কে কতটা যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
ওমানে ওই কো-পাইলটের উড়োজাহাজ চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
বিমানটির পাইলট স্মিত মাছছার ভারতীয় নাগরিক। বৃহস্পতিবার আবুধাবির একটি হাসপাতাল থেকে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জানান, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন- যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে তাকে আবার উঠে দাঁড়াতেই হবে। ভিডিও কলে তিনি বলেন, তার শরীরে অনেক আঘাত ছিল এবং তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য তখন তিনি লড়ছিলেন। একপর্যায়ে তার মনে হয়, তিনি যদি উঠে দাঁড়াতে না পারেন, তাহলে যাত্রীরা প্রাণ হারাবেন।


