গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তী শাবকের জন্ম

গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তী শাবকের জন্ম
Advertisement
Advertisement

গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তী শাবকের জন্ম হয়েছে।

সোমবার রাতে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক এসিএফ মো. তারেক রহমান তথ্যটি জানান। তবে ঠিক কত তারিখে জলহস্তীর জন্ম হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে পার্কে নতুন শাবকসহ জলহস্তীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটিতে।

সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক রাজু আহমেদ বলেন, জন্মের পর এখন পর্যন্ত শাবকটি সুস্থ রয়েছে। শাবকটিকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিচ্ছে তার মা। পুষ্টিমানের কথা বিবেচনা করে তাদের খাবারের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। দিনের বেশির ভাগ সময়ই মায়ের সঙ্গে শাবকটি পানিতেই থাকছে। সারা শরীর ডুবিয়ে চোখ বের করে কচুরিপানার ভেতরে লোক চক্ষুর আড়াল হয়ে থাকছে। তবে মাঝেমধ্যে শাবকটি ডাঙায়ও উঠে আসে।

জলহস্তীর প্রজনন প্রক্রিয়া পানির ভেতরেই সম্পন্ন হয়। স্ত্রী জলহস্তী সাধারণত ৫ থেকে ৬ বছর বয়সে এবং পুরুষ জলহস্তী ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে প্রজননের জন্য পরিপক্কতা লাভ করে। স্ত্রী জলহস্তীর গর্ভধারণকাল বা জেস্টেশন পিরিয়ড প্রায় ২৪০ দিন (৮ মাস)। পানির নিচেই এরা সাধারণত একটি মাত্র বাচ্চার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন

জন্মের পর পরই বাচ্চাকে সাঁতার কেটে পানির ওপরে এসে প্রথম শ্বাস নিতে হয়। বাচ্চারা পানির নিচে এবং ডাঙ্গায় উভয় স্থানেই মায়ের দুধ পান করতে পারে। মা জলহস্তী তার বাচ্চার প্রতি অত্যন্ত রক্ষণশীল হয় এবং কুমির বা অন্য শিকারী প্রাণীর হাত থেকে বাচ্চাকে রক্ষা করতে যেকোনো স্তরের আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বনসংরক্ষক এসিএফ মো. তারেক রহমান জানান, দেড় সপ্তাহ আগে পার্কের জলহস্তী বেষ্টনীতে শাবকসহ মা জলহস্তী ডাঙ্গায় উঠে আসে। পার্কের কর্মীরা তাদের দেখতে বেষ্টনীতে গেলে গভীর পানিতে ডুবে লুকিয়ে যায়। মাঝে মধ্যে জলাধারের কোথাও সামান্য ভেসে উঠেই আবার হারিয়ে যাচ্ছে। এ যেন এক প্রকার লুকোচুরি খেলা।

এখনো শাবকটির লিঙ্গ শনাক্ত করা যায়নি জানিয়ে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, লিঙ্গ শনাক্ত করতে আরও কিছুদিন সময় লাগতে পারে। শাবকটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

মা জলহস্তীর সঙ্গে কচুরিপানার ভেতরে দিয়ে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। মা জলহস্তীকে বাড়তি খাবারও দেওয়া হচ্ছে। মায়ের পেছন পেছন বেষ্টনীর পুকুরের পানি থেকে পাড়ে উঠে আসছে, বেশ কিছু সময় অবস্থানের পর আবার মায়ের সঙ্গে পুকুরের গভীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। আবার গভীর পানিতে মাঝে মাঝে গা ভাসিয়ে পার্কের দর্শনার্থীদের বিনোদন দিচ্ছে সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকসহ পার্কের বেষ্টনীতে থাকা জলহস্তীগুলো।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad