চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সরকারি গাছ কেটে চুরির অভিযোগ তুলে, সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় ১৩ আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আবদুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ। বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে পথরোধ করে জাহেদুলের ওপর হামলা চালানো হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে একই দিন রাতে তাকে আরেক দফা মারধর ও ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং একজনের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কেটে চুরি করার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন মানিক। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জাহেদুল ক্ষুব্ধ হন। পরে নতুনহাট এলাকার একটি মিষ্টির দোকানের সামনে মানিক ও তার বন্ধুদের হুমকি দেন জাহেদুল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
গত ৩০ আগস্ট রাত আটটার দিকে পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় জাহেদুলকে মারধর করেন আসামিরা। এ সময় তাকে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ বলছে, ওইদিনই রাত ১০টার দিকে জাহেদুল তার সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদকে (২৫) নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় তাদের পথরোধ করা হয়। সড়কে গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি ফেলে তাদের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

এরপর একদল সশস্ত্র ব্যক্তি জাহেদুলকে ঘিরে ফেলেন। দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ সময় ওয়াহিদও আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় জাহেদুলকে উদ্ধার করা হলেও তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহত জাহেদুলের মা মনোয়ারা বেগম ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আসামিদের গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করে তথ্য যাচাই করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মামলার দুই আসামি মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আরও কয়েকজন আসামি চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাদের কয়েকজন ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঢাকায় অভিযান চালায়।
এর ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত একটার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ আসামি গ্রেপ্তার হলেন।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।


