দুই মাস পর গ্যাসের চাপ বাড়ায় নরসিংদীর শিল্পকারখানায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। আবাসিক সংযোগ ও সিএনজি পাম্পেও গ্যাসের চাপ বাড়ছে।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলায় গ্যাসের চাহিদা ৫০ পিএসআই। বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে ৪০ পিএসআই। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে শিল্পমালিক ও গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
শিল্পমালিক ও শ্রমিকরা জানান, চলতি বছরের ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর জেলাজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র হয়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পনগরী নরসিংদীসহ দেশের কয়েকটি জেলায়।
সরকারের প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ আবার সক্ষমতায় ফিরেছে। পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ বাড়ায় গ্যাসনির্ভর বয়লারগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এতে নরসিংদীর শিল্পকারখানায় উৎপাদন বাড়ছে। সিএনজি পাম্প ও বাসাবাড়িতেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
কারখানা শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পমালিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে শ্রমিকদের ওপরও। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের চাপ বাড়ায় গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো উৎপাদনে ফিরতে শুরু করেছে। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হলে মালিক-শ্রমিক উভয়েই লাভবান হবেন। পরিবহন ব্যবস্থাতেও স্বস্তি ফিরবে।
চৌয়ালা শিল্প এলাকার টেক্সটাইল শ্রমিক মো. রাফি বলেন, ‘আমরা উৎপাদনভিত্তিক কাজ করি। গ্যাসনির্ভর কারখানায় গ্যাস না থাকায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে মালিক-শ্রমিক সবাই ভালো থাকব।’
অপর শ্রমিক রফিক মিয়া বলেন, ‘উৎপাদন না থাকায় শ্রমিকরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। মালিকরাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। শিল্প বাঁচাতে হলে গ্যাস নিশ্চিত করতে হবে। গ্যাসের সরবরাহ যে হারে বেড়েছে, তা সন্তোষজনক নয়। কবে পুরোপুরি গ্যাস সংকট কাটবে, জানি না।’
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রাশেদুল হাসান রিন্টু বলেন, ‘জেলায় গ্যাসনির্ভর নিবন্ধিত কারখানার সংখ্যা ৩২৩টি। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় নরসিংদী শহরের চৌয়ালা, মাধবদী ও শেখেরচর শিল্প এলাকার টেক্সটাইল, ডাইং, স্পিনিং ও সাইজিং মিলগুলোর উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় বন্ধ থাকা ও সীমিত পরিসরে চলা কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরার আশা তৈরি হয়েছে। অচিরেই পরিস্থিতির শতভাগ উন্নতি হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মুখপাত্র ও আবেদ টেক্সটাইলের পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কৃষির পাশাপাশি নরসিংদীর অর্থনীতি অনেকটা শিল্পকেন্দ্রিক। এর সঙ্গে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান জড়িত। গ্যাস সংকটে শিল্পমালিক ও শ্রমিকরা সংকটে পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করায় নরসিংদী তথা দেশের শিল্পকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক হয়ে আসবে। মঙ্গলবার রাত থেকে গ্যাস সরবরাহের উন্নতি হয়েছে। এখন চাহিদার ৭০ ভাগ গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। আরও বাড়লে পুরোপুরি উৎপাদন শুরু করা যাবে।’
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের নরসিংদীর ব্যবস্থাপক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় মঙ্গলবার থেকে নরসিংদীর শিল্পকারখানা, সিএনজি পাম্প ও বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শিল্পাঞ্চলেও গ্যাসের চাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ৫০ পিএসআই চাপে গ্যাস সরবরাহ করা গেলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।’


