মোংলায় গুমের অভিযোগ ওঠা মিরাজ শেখের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।
তিনি বলেন, মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগটি অত্যন্ত সতর্কতা ও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। গত ১৭ বছর বিএনপি-জামায়াতকে লক্ষ্য করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে ক্রসফায়ার বলা হয়েছে। একই সময়ে গুমের ঘটনাও ঘটেছে। বিএনপি বা জামায়াত করার কারণে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছে, যার ৯৯ শতাংশের বাদী ছিল পুলিশ।
বর্তমান সরকার গুম ও ক্রসফায়ার শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে দাবি করে আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে মামলা করার সংস্কৃতিও বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মিরাজ শেখের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সারা বাংলাদেশের মধ্যে মিরাজ শেখের কেস স্টাডি একটি গুমের অভিযোগ হিসেবে এসেছে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে, অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এর তদন্তকাজ অব্যাহত রেখেছি। আমরা চাই না মিরাজ শেখের পরিবার ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হোক।’
মন্ত্রী জানান, মিরাজ শেখের পরিবার গুমের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় মামলার আসামি হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের মাধ্যমে পরিবারটিকে আইনি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মিরাজের বোনও সভায় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েই সরকার সেবা দিতে চায়। জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে কোথাও মব জাস্টিস হলে, কিংবা কাউকে জামিন দেওয়া বা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সে যত শক্তিশালীই হোক, বিএনপির কোনো শক্তিশালী নেতা যদি তাকে রক্ষার চেষ্টা করেন, তার ব্যাপারেও আপনারা জিরো টলারেন্স নীতি দেখাবেন। খুন করে বাইরে ঘুরে বেড়াবেন, আর জনগণ বলবে খুন করলেও কিছু হয় না—এটা হতে পারে না। পুলিশের হাত এখনো এত দুর্বল হয়নি। আইন আইনের গতিতে চলবে।’
মাদক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, মাদক সিন্ডিকেটের হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মাদক আসছে। মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কোনো নেতার পৃষ্ঠপোষকতা থাকলেও তাকেও সতর্ক করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। বিকালে বিএনপির নির্বাচিত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী, জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন তিনি।


