চাঁদপুরের ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য অনলাইনে বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড, এর মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার ভোরে নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার বিকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন নড়াইলের কালিয়া থানার ফুরকান শেখ (২৫), চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো সম্পাদনা করে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি খুলত। এসব পেজে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, শিশুর খেলনা ও অনলাইন চাকরিসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ভুয়া কমেন্ট ও ভিডিও তৈরি করে বিজ্ঞাপন বুস্টের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
ক্রেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করতেন। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে নাহিদ, জাবেদ, সনি মিয়া, হাজী আব্দুল কাদের ও সাকিবসহ বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের প্রকৃত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিতেন।
পুলিশ আরও জানায়, প্রতারণার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স দেখানোর পাশাপাশি নকল ভাউচার তৈরি করা হতো। পরে ক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হতো।
এ ঘটনায় গত ৮ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর মডেল থানায় আলাদা দুটি মামলা করা হয়।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবির সমন্বয়ে গঠিত একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের শনাক্ত করে। পরে নড়াইলের কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, একই ঘটনায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুইজনসহ এ পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।


