চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় অস্ত্রধারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে এই তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- সীতাকুণ্ডের মহালঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মো. সাদেক আলী (২৮), পৌরসভার পশ্চিম আমিরাবাদ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামরুল হাসান (৪৩) ও হানিফ (৩৪)। তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। এরপর থেকে অভিযানে সীতাকুণ্ড থানা এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় একনলা কাটা বন্দুক এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অন্য অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১টি ধারালো ছুরি, তিনটি কিরিচ, একটি দা ও ১৫টি লাঠি।
গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সীতাকুণ্ডে পৃথক জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় কয়েকজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে কয়েকজন যুবককে অস্ত্র হাতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিওতে পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা এক যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে অস্ত্রধারী ওই যুবককে শনাক্ত করে। তিনি হলেন, মিরসরাই উপজেলার হাইতকান্দি ইউনিয়নের মির্জাবাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে সিরাজুল ইসলাম।
এ ছাড়া অপর অস্ত্রধারী হিসেবে মো. সাদেক ও কামরুলকে শনাক্ত করে পুলিশ। ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে এবং এর ধারাবাহিকতায় সাদেক ও কামরুলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সিরাজুল ইসলামসহ অন্য অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১ সেপ্টেম্বর সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মুন স্টার ক্লাবে বেলা তিনটায় কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। একই সময়ে একই ক্লাবে পাল্টা কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তুতি নেন দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও। এ নিয়ে দুই দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই পক্ষকে পৃথক সময়ে কর্মসূচি শেষ করার নির্দেশ দেয়। সালাউদ্দিনের অনুসারীদের বেলা দুইটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে বলা হয়। তবে সকাল নয়টা থেকেই মুন স্টার ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। অন্যদিকে সালাউদ্দিনের অনুসারীরা ক্লাব থেকে কিছুটা দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।
ওইদিন বেলা একটার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়।
মিনিবাস ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার জন্য কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের দায়ী করেন। তবে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঘটনার পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোরদার অভিযানে নামে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।


