শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসবে: শফিকুর

শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসবে: শফিকুর
চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের দাবিকে সামনে রেখে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসবে এবং এ কর্মসূচির সঙ্গে ঈদ বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।

শনিবার চট্টগ্রামের লালদিঘি মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি একথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের চলমান পরিস্থিতি, সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক সংকটের সমালোচনা করেন।

জামায়াত আমির বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকটের মধ্যেও গ্রাহকদের নিয়মিত ভৌতিক বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ একদিকে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও সংকট নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। চারদিকে হাহাকার চলছে।

আরও পড়ুন

বিমানবন্দরে প্রবাসীর সোনা ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছিনতাইয়ের সময় অভিযুক্তরা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক বলে পরিচয় দিয়েছিল। পরে তারা আটক হওয়ার পর বিএনপির লোক বলে পরিচয় পাওয়ার দাবি করেন তিনি। এদের ‘আসল গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

চট্টগ্রামের বর্তমান মেয়রের মেয়াদের বিষয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। মেয়রের পদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তিনি যতদিন ইচ্ছা পদে থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি এটিকে সুশাসনের বিপরীত ও ফ্যাসিবাদের তাজা উদাহরণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি পদত্যাগ করে নির্বাচিত হয়ে আসুন।’

ছবি: টাইমস

গণরায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়কে অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। জনগণের মতামত ও অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহত্তর আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই আন্দোলনের ডাক আসবে। এর সঙ্গে ঈদের কোনো সম্পর্ক নেই। আন্দোলনের ডাক কোনো নির্দিষ্ট সময় বা উৎসব দেখে আসবে না; জনগণের প্রয়োজন হলেই আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের লোভ ও সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কোনো ধরনের লোভের প্রতি চোখ তুলেও তাকানো হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।

শেষে তিনি বলেন, এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জনগণই জয়ী হবে। ফ্যাসিবাদের পাশাপাশি চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ এবং আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নতকারীরাও পরাজিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর