চার মাসের আদেশ চলল ১৫ বছর, হাইকোর্টে রিট খারিজ

চার মাসের আদেশ চলল ১৫ বছর, হাইকোর্টে রিট খারিজ
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০১১ সালে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অভিযোগ করা হয়েছে, চার মাসের জন্য নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্নভাবে বাড়িয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেছে রিটকারী প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহস্পতিবার মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা রুল খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুল রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির। রিটকারী পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেডের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল।

মামলার নথি অনুযায়ী, প্রবাসীদের অর্থায়নে ঢাকার পূর্বাচলে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান ও চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের উদ্যোগে পূর্বাচল প্রবাসী পল্লী লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়। কোম্পানিটি ২০০৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়।

২০১১ সালে প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির প্রজেক্ট ডিরেক্টর মো. আব্দুল কাইয়ুম প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পাওয়া ক্ষমতাবলে রিটটি করেন। মামলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পূর্বাচল আমেরিকান সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, রূপগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্ট রূপগঞ্জ ও নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চার মাসের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইনগত সুরক্ষা দিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। আইনগতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময়ে বাড়ানো হয় এবং এভাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি আদালতের ওই আদেশের আওতায় নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। মামলার অন্যতম বিবাদী রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষে উপ-পরিদর্শক আহসান হাবিব গত ১৬ জুলাই আদালতে জবাব দাখিল করেন। এতে রিটকারীর আবেদনে করা অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করা হয়।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, প্রকল্পটি একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট বা আবাসন প্রকল্প এবং এর আইনগত অনুমোদন ও নিবন্ধন নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ আরও জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর করা একটি মামলায় প্রকল্পটির চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিদুর রহমান আসামি হয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ ছিল, এসব বিষয় সত্ত্বেও ২০১১ সালের হাইকোর্টের আদেশকে ভিত্তি করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ও বিতর্কিত প্রকল্পটি নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে আসছিল। শুনানিতে প্রকল্পটির পরিচালকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও মিথ্যা নথির মাধ্যমে কয়েকটি মৌজায় কৃষকদের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এসব বিষয়ে জাতীয় পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ আরও অভিযোগ করে, ২০১১ সালের প্রাথমিক আদেশকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে ভুলভাবে ব্যবহার করে একই মৌজার স্থানীয় জমির মালিকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির যথাযথ আইনগত বৈধতাও নেই। এসব কারণে ব্যক্তিস্বার্থে রিট দায়ের করে আদালতের আদেশ ব্যবহারের অভিযোগে রিটকারী পক্ষকে জরিমানা করার আবেদন জানানো হয়। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেয়।

রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির বলেন, রিটকারী প্রতিষ্ঠান প্রথমে চার মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ নিয়েছিল। পরে সেটি বিভিন্ন সময়ে বাড়িয়ে প্রায় ১৫ বছর কার্যকর রাখা হয়। তার ভাষ্য, এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিরাপত্তা দেওয়ার ওই আদেশের অপব্যবহার করে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিল করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার আসামি হওয়ার পরও গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্টের আদেশটি নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছিলেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে তুলে ধরে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত রুল খারিজ করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর