আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সাদপন্থীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর ও জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী দেশের অপরাধ পরিস্থিতি আগের চেয়ে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা ও নারী নির্যাতনের মতো প্রধান অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।’

‘সব সূচকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ উন্নতি করতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার সন্তুষ্ট।’

তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ের তথ্য পুলিশ সদর দপ্তরের রেকর্ডের সঙ্গে যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি। পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি সক্রিয় করার কাজও চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ছিনতাই রোধে কঠোর পদক্ষেপ

সম্প্রতি ছিনতাই বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছিনতাই রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি ছিনতাইকারীর হামলায় এক শিক্ষিকা নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের অভিযানের উদাহরণ দেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঘটনার ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার ও ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ডিবি অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করেছে।’

আরও পড়ুন

দ্রুত অভিযানের কারণে দেশে ছিনতাই কমছে দাবি করে তিনি বলেন, সামনে এ প্রবণতা আরও কমবে।

পুলিশের ভেতরে নজরদারি

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অসহযোগিতা বা সরকারের কার্যক্রমে গোপনে বাধা সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের ভেতরে বিশেষ নজরদারি চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাহিনীর নিজস্ব ‘ইন্টারনাল ইন্টেলিজেন্স’ সক্রিয় রয়েছে। অসহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের কাছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে সমঝোতার আহ্বান

বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অতীতের সংঘর্ষ ও হতাহতের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইজতেমার দুই পক্ষের মধ্যে কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে। উভয় পক্ষ সরকারের কাছে পৃথক প্রস্তাব দিয়েছে।

জুবায়েরপন্থীরা ইজতেমার প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব আয়োজন করতে চান। তাদের প্রস্তাব, সাদপন্থীরা টঙ্গীর মূল ভেন্যুর বাইরে অন্য স্থানে ইজতেমা করবেন।

সাদপন্থীরা জুবায়েরপন্থীদের দুই পর্ব শেষে ও রমজান শুরুর আগের সময়ে একটি পর্ব আয়োজন করতে চান। বিকল্প হিসেবে নভেম্বরের শেষ দিকে জুবায়েরপন্থীদের পর্ব শুরুর আগেও ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।

অন্য স্থানে ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাবে তারা রাজি নন।

সরকার উভয় পক্ষকে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

মাওলানা সাদের আগমন

মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী ধর্ম মন্ত্রণালয় দেখবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স ও অনুমতি পাওয়ার পর ধর্ম মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করছে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর