জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগও আটকে দিল আদালত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগও আটকে দিল আদালত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন ফেডারেল আদালতের এক বিচারক। বুধবার তিনি ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশের একটি অংশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

এর আগে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্পের বড় উদ্যোগ বাতিল করেছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এরপর আগস্টে নতুন করে সীমিত পরিসরে উদ্যোগ নেন ট্রাম্প।

মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেবোরা বোর্ডম্যান বলেন, প্রশাসন নতুন নীতি কার্যকর করতে পারবে না। তবে নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা তৈরির কাজ সরকারি সংস্থাগুলো চালিয়ে যেতে পারবে।

প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে দেওয়া রায়ে বোর্ডম্যান বলেন, নতুন নীতিটি সম্ভবত অসাংবিধানিক। চলতি গ্রীষ্মে ট্রাম্পের আগের উদ্যোগ বাতিলের সময় সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তার সঙ্গে নতুন নীতিরও সংঘাত রয়েছে।

আদালতের আদেশটি মামলায় স্বীকৃত চ্যালেঞ্জকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে এমন সব শিশু রয়েছে, যারা ট্রাম্পের প্রথম নির্বাহী আদেশ কার্যকর হলে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হতো।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চেয়েছে সিএনএন।

বুধবার ফক্স নিউজের লরা ইনগ্রাহামের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় বিবেচনায় নিয়েই নির্বাহী আদেশটি তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ‘এই বিচারক আমাদের পক্ষে রায় দেবেন, এমনটা আমরা আশা করিনি। তাই এটি আমাদের কাছে বিস্ময়ের নয়।’ পরে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে আমরা আবার সুপ্রিম কোর্টে যাব।’

নতুন নির্বাহী আদেশের লক্ষ্য ছিল প্রচলিত আইন আরও কঠোর করা ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের স্বীকৃত ব্যতিক্রম সীমিত করা। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া যে কোনো ব্যক্তি নাগরিকত্ব পায়। বাবা-মায়ের অভিবাসন অবস্থা এতে প্রভাব ফেলে না।

আগস্টে জারি করা ট্রাম্পের নতুন আদেশে বলা হয়, বাবা-মায়ের কেউ মার্কিন নাগরিক না হলে ফেডারেল সংস্থাগুলো সন্তানের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেবে না, যদি বাবা-মায়ের যেকোনো একজন ‘শত্রু দেশের নাগরিক’, ‘বিদেশি সরকারের কর্মচারী’ হন বা কথিত জন্ম পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।

বোর্ডম্যান লিখেছেন, ‘শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের নির্বাহী আদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দিলে এমন শিশুদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে, যাদের সুপ্রিম কোর্ট নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।’

বোর্ডম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগ করা বিচারক।

নতুন নীতির বিরুদ্ধে নিউ হ্যাম্পশায়ারেও আরেকটি মামলা চলছে।

ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য করেছেন। গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত বা অস্থায়ী মর্যাদায় থাকা বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার পথ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে চলতি গ্রীষ্মে সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশ বাতিল করে। আদালত এটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। এরপর ট্রাম্প নতুন উদ্যোগ নেন। সেটিও এখন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর