বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও চার কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদা মেটাতে ৭০ হাজার টন ডিএপি ও টিএসপি সার কেনা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দেশে গ্যাসের সরবরাহ-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে সরকার আরও চার কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিল। দেশে তীব্র গ্যাস সংকট সামলাতে সরকার আমদানি করা এলএনজি দিয়ে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করছে। যাতে শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা যায়। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে একদিকে সরবরাহ কমছে, অন্যদিকে দাম বাড়ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চার জাহাজ এলএনজি সরবরাহ করবে আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর, বিপি সিঙ্গাপুর ও ভিটল এশিয়া।
আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর এক কার্গো কিনতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর দিয়েছে ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার। প্রতিষ্ঠানটির আরেকটি কার্গোর এলএনজির দাম পড়বে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৩ দশমিক ৯৮ ডলার। বিপি সিঙ্গাপুর একটি জাহাজের দর দিয়েছে ২৮ দশমিক ০৩ ডলার, ভিটল এশিয়া আরেকটি জাহাজের দাম পড়ছে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬ দশমিক ৬৬ ডলার।
ক্রয়বিধিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক দরপত্র পদ্ধতিতে এসব এলএনজি আনা হচ্ছে বলে জনিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
পাশাপাশি কৃষকদের চাহিদা মেটাতে মরক্কো থেকে ৭০ হাজার টন ডিএপি ও টিএসপি সার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে চুক্তির আওতায় ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারে মরক্কো থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি টন ডিএপি সারের দাম পড়ছে ৮৯৪ ডলার। বৈঠকে মরক্কো থেকে আরও ৩০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি টন টিএসপি সারের দাম পড়ছে ৬৬৯ দশমিক ৩৩ ডলার।
এদিকে, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১১তলা সদর দপ্তর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকা।
ভবন নির্মাণের পূর্ত কাজের জন্য ই-জিপি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে মোট ১০টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে ছয়টি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ৭ হাজার ৭৬৪ টাকায় কাজটি কেনার প্রস্তাব করা হয়। বৈঠকে সেই প্রস্তাবই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ১৫ তলা ভিত্তির ওপর ১১তলা র্যাব সদরদপ্তর ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটিতে মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা, নিচতলায় গাড়ি পার্কিং এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা থাকবে।
এছাড়া প্রকল্পের আওতায় তিনতলা ম্যাগাজিন ও কোট ভবন, তিনতলা উপকেন্দ্র ভবন, গুদাম, পাম্প ও জলাধার, গভীর নলকূপ, পানি সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ সড়ক, গাড়ি ধোয়ার ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সালামি মঞ্চ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক ব্যবস্থা, বহির্বৈদ্যুতিক সংযোগ, লিফট, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে র্যাবের সদর দপ্তরের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ও সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।


