রাজশাহীতে বৃষ্টি: আমনখেতে স্বস্তি, নগরে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি

রাজশাহীতে বৃষ্টি: আমনখেতে স্বস্তি, নগরে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বুধবার ভোরের টানা বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে রাজশাহীর আমনচাষিদের মনে। তবে একই বৃষ্টি নগরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি করে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে নগরবাসীর।

ধানের ফুল আসার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচনির্ভর জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফেরায় কমেছে সেচের চাপ ও উৎপাদন খরচ। তবে গ্রামে এই বৃষ্টি আশীর্বাদ হয়ে এলেও রাজশাহী নগরীতে দেখা গেছে ঠিক বিপরীত চিত্র। টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঢাকা পড়ে বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বুধবার ভোর থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির প্রভাবে রাজশাহী নগরের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের সড়ক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক, বর্ণালী মোড়, হেতেমখা ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে। হাঁটুসমান পানিতে আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। ফলে দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীসহ পথচারীরা। জমে থাকা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ড্রেনের ময়লা মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়।

বর্ণালী মোড় এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বেশি বৃষ্টি হলে অনেক সড়কে পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে।’

কলেজ শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম জানান, বৃষ্টির পর ড্রেনের ময়লার সঙ্গে পানি মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা ক্লাসে যাওয়ার পথে সমস্যা তৈরি করে।

আরও পড়ুন

দীর্ঘ খরার কারণে আমন চাষাবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এলাকার কৃষকেরা। সেচ দিতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ হচ্ছিল। ধানের দানা গঠন ও পরিপুষ্ট হওয়ার এই সময়ে বৃষ্টির পানি তাদের সেই দুশ্চিন্তা দূর করেছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, ‘এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

ধানের পাশাপাশি উপকৃত হয়েছেন আগাম সবজি চাষিরাও। পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার কৃষক মোশাররফ হোসেন ২৫ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি জানান, কয়েক দিনের অনাবৃষ্টির পর বুধবারের এই বৃষ্টি সবজির উপকার করবে এবং সেচের খরচ কমাবে।

জলাবদ্ধতার কারণে নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না হওয়া এবং পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতাকে তারা দায়ী করছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। বর্ষা মৌসুমে নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

রাসিক জানিয়েছে, ড্রেন থেকে ময়লা-আবর্জনা ও পলি অপসারণ এবং ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের উপশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় নালা পরিষ্কারের কাজ চলছে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো পরিমিত বৃষ্টি আমনের উপকার করলেও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ক্ষতির কারণ হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনিয়মিত বৃষ্টির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা সামলাতে নগরে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং কৃষিতে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস ন্যাশনাল
টাইমস ন্যাশনাল

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর