নির্বাচন কমিশনে (ইসি) সম্প্রতি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমকে অপসারণসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয় দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব দাবির কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।
ইসির অতিরিক্ত সচিব সামসুল আলমের অপসারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি সামসুল আলম একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। তাকে এখানে অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একটা সরকারি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে একটা পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী, আইনের লঙ্ঘন।
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে আমরা বলেছি যে মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যেন স্থানীয় নির্বাচনের কোনো পাবলিসিটিতে অংশগ্রহণ করতে না পারে। আগের আচরণবিধিতে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিবিধান ছিল না। উনারা কথা দিয়েছেন যে এগুলো বিবেচনা করবেন, আচরণবিধিতে রাখবেন।’
সামসুল আলম শেষ পর্যন্ত ইসিতে থেকে গেলে জামায়াতের অবস্থান কী হবে- জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এই প্রতিবাদ, এই বিরোধিতা, এই আপত্তি জানাতেই থাকব। আমরা মনে করি আমাদের এই দাবি মানা হবে, মানতে হবে। তা না হলে এই নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না, এই নির্বাচন দলীয় হিসেবেই কিন্তু একটা বায়াসনেসের মধ্যে পড়ে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে নয়টি দাবি হস্তান্তর করেছি।’
স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্যতা বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিগত দিনে এইটার প্রচণ্ড আপত্তি করেছি এবং এই রিকমেন্ডেশনকে বাতিল করতে বলেছি। এটা বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিকেল ২৭, ২৮ এ নাগরিকদের যে সমতা এবং বৈষম্যহীনতার অধিকার দেওয়া হয়েছে সেই সমতা এবং বৈষম্যহীনতার পরিপন্থী। কারণ একজন পার্লামেন্ট মেম্বার ইলেকশন করতে পারবে এমপিওভুক্ত হয়ে, কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে সে পারবে না। এটা হতে পারে না। সরাসরি আইনের, সংবিধানের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, এটা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাদের অযোগ্যতার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ আছে, সেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোন দলের কোনো লিডার যদি ইলেকশনে অংশ নেন, দ্যাট ইজ অলসো এ পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিটি। তাদেরকেও স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করতে বলেছি। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের পদ-পদবি হোল্ড করা এমন কোনো ব্যক্তির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত না।’
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনে নিযুক্ত প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার উপজেলা পরিষদে, সিটি কর্পোরেশনে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে পলিটিক্যাল নিয়োগ দিয়েছে। ন্যাচারালি পারসেপশন হচ্ছে যে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে তাদেরকে প্রার্থী করা হবে। তার প্রস্তুতি হিসেবে তাদেরকে সিটি কর্পোরেশনে বসানো হয়েছে, জেলা পরিষদে বসানো হয়েছে, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে বসানো হয়েছে। তফসিল ঘোষণা হবে তিনি সেখানে দলীয় প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এটার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। ’
আগামী দিনে এসব দাবি পূরণ না হলে নির্বাচন বর্জনের মতো সিদ্ধান্তে জামায়াত যাবে কি না- জানতে চাইলে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নির্বাচন বর্জনের কোনো কথা বলার মতো সময় এখন আসেনি, সেই পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে আমরা মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনো আস্থাশীল, তবে এটুকু বলতে আমাদের দ্বিধা নেই যে ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার যে একটা চাপ তাদের ওপর আছে, কথা শুনলে আর উত্তর দিলে কনভারসেশনে বোঝা যায় যে কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের মধ্যে আছে। সবটা যেন মন খুলে বলতে পারেন না।’


