দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আরও কমেছে সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে সোনার দাম কমেছে। এতে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিং-এর এক জরুরি সভায় নতুন দামের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, মূলত বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও সোনার দাম কমিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত নতুন এ দাম কার্যকর থাকবে। সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে কারিগররা গয়নার ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি রাখতে পারবেন।
এর আগে, গত শনিবার সোনার দাম ভরিতে ৭ হাজার ১১৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তারও আগে, চলতি মাসের ২৫ তারিখ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং ২২ তারিখ ৫ হাজার ৪৮২ টাকা করে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। তার আগে, গত ২০ আগস্ট সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং ১৫ আগস্ট ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়ানো হয়। তার আগের দিন সোনার দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল।
দেশের ইতিহাসে সোনার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি। এদিন সোনার দাম একলাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় দাঁড়ায়। এ বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৯ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫২ দফা কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
সোনার দামের পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমেছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে এখন ৫ হাজার ৩০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ২০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


