ঝিনাইদহের মহেশপুরে কপোতাক্ষ নদের পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে পৌরসভার ময়লার ভাগাড়। গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস সড়ক ঘেঁষে নিয়মিত বর্জ্য ফেলায় দূষণ ও দুর্গন্ধে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভোগান্তির মুখে পড়েছেন।
পৌর শহরের পৌরসভা মোড় থেকে কপোতাক্ষ নদের পাড় হয়ে জলিলপুর অভিমুখী সড়কের পাশে প্রায় চার বছর ধরে এই ময়লার ভাগাড় তৈরি করেছে পৌরসভা। নদের পাড়ে তৈরি ভাগাড়ের দুর্গন্ধে চারপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পথচারীরা মুখে কাপড় ও মাস্ক দিয়ে চলাচল করছেন।
সড়কের পূর্বদিকে মহেশপুর পৌর পাইকারি মাছের বাজার অবস্থিত। পৌরসভা এলাকার সব ময়লা, মেডিকেল বর্জ্য ও হাট-বাজারের আবর্জনা ফেলা হয় কপোতাক্ষ নদের পাড়ের এই জায়গায়। ময়লার ভাগাড় সরিয়ে নিতে স্থানীয়রা বারবার পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেও সমাধান পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জোৎস্না রানী বলেন, ‘পৌরসভার গাড়িতে করে প্রতিদিন কপোতাক্ষ নদের পাড়ে রাস্তার পাশে ময়লা ফেলে রেখে যায়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টি হলেই সড়কের ওপর চলে আসে। দুর্গন্ধে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সুরুজ আহমেদ বলেন, ‘চার বছর আগে তৎকালীন পৌর মেয়র কারো পরামর্শ ও মতামত ছাড়াই কপোতাক্ষ নদের পাড় দখল করে ভাগাড় তৈরি করে। নদের পাড় তো ওয়াপদার জায়গা। এই জায়গা পৌরসভা কিভাবে দখলে নিয়ে ব্যবহার করছে আমরা সেটাও জানি না। আমরা চাই, বর্তমান প্রশাসন যেন দ্রুত কপোতাক্ষ নদের পাড় দখলমুক্ত করে ময়লা ভাগাড় অন্যত্র সরিয়ে নেয়।’
মহেশপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সোহেল রানা জানান, ময়লার ভাগাড় তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা না পেয়ে প্রায় চার বছর আগে তৎকালীন মেয়রের নির্দেশে নদের পাড়ে এটি করা হয়। কপোতাক্ষ নদের পাড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা ব্যবহারের অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেই সময় কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। এটা নিয়ে আমি এর বেশি কিছু জানি না।’
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘পৌর বাসিন্দাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্ধারিত জায়গায় পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশন তৈরির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেxয়া হয়েছে। তবে রাস্তা সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা এখন পর্যন্ত পৌরসভার নতুন ময়লার ভাগাড়ে বর্জ্য স্থানান্তরের কাজ শুরু করতে পারিনি। তবে এ নিয়ে কার্যক্রম চলমান।’


