হিমবাহধসে সৃষ্ট বন্যার পর চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে ধ্বংসস্তূপ আটকে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করেছে। এতে হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় চীনের কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে সব উদ্ধারকর্মী ও যানবাহন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে তারা।
শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, হ্রদটির পানির ধারণক্ষমতা ইতোমধ্যে ২৫ লাখ ঘনমিটার ছাড়িয়েছে। এর এক দিন আগে চীনের পাঠানো আট সদস্যের প্রকৌশলী দল হ্রদটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমার তথ্য পেয়েছিল।
বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তের দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যায় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পর নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার নেপাল ও চীন উভয় দেশই হিমালয় অঞ্চলে নতুন বন্যার আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করে। হিমবাহধসের ধ্বংসাবশেষ নদীর প্রবাহ আটকে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হওয়ায় এর পেছনে পানি জমে হ্রদটির সৃষ্টি হয়।
বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বড় ধরনের বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ধস ও তুষারধসের মতো দুর্যোগও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে চীনের সব উদ্ধারকর্মী ও যানবাহনকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে।
ঝুঁকি কমাতে চীনের কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার একটি আট সদস্যের প্রকৌশলী দল ঘটনাস্থলে পাঠায়। দলটি আকাশপথে জরিপ ও হ্রদের ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করে। প্রকৌশলী চেন হানশিয়াও জানান, দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, হিমবাহধসের পর হ্রদটি তৈরি হওয়ায় এর চারপাশে বিচ্ছিন্ন ও খাড়া পাহাড়ি ঢাল সৃষ্টি হয়েছে। হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রণে সাধারণত ধ্বংসস্তূপের বাঁধের অপেক্ষাকৃত নিচু অংশ দিয়ে একটি পানি নিষ্কাশন চ্যানেল তৈরি করা হয়। তবে পানি কী গতিতে বের হবে এবং হ্রদটি কত দ্রুত পানিতে পূর্ণ হবে, তার ওপর ভিত্তি করে চ্যানেলটির প্রস্থ ও গভীরতা নির্ধারণ করতে হবে।
জরিপে দেখা গেছে, হ্রদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫০ মিটার এবং গভীরতা ৪০ থেকে ৫০ মিটার। গিরং সীমান্তবন্দর এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে হ্রদের উজানে থাকা মাটি ও পাথর আরও নরম ও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। আগামী সপ্তাহজুড়েও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে।
চীন বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানিয়েছিল, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি হ্রদটিতে প্রবেশ করতে পারে। এই পরিমাণ পানি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমান। এতে প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চীনের উদ্ধারকারী দলের ধারণ করা আকাশপথের ভিডিওতে হ্রদটির চিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিজিটিএন প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কোনো দৃশ্যমান পানি নিষ্কাশনের পথ ছাড়াই একটি অববাহিকায় বাদামি রঙের পানি জমছে। পানির নিচে ইতোমধ্যে ঝোপঝাড় ও গাছপালা তলিয়ে গেছে এবং ধ্বংসস্তূপ ও পাথরের তৈরি বাঁধে পানি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে সীমান্তের দুই পাশে এখনো প্রায় ১ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের সর্বোচ্চ ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।


