শিপইয়ার্ডে নিহতের প্রতিবাদে শ্রমিক শক্তির বিক্ষোভ

শিপইয়ার্ডে নিহতের প্রতিবাদে শ্রমিক শক্তির বিক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস এলএনজি শিপইয়ার্ডে শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে শাহবাগের জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে জাতীয় শ্রমিক শক্তির বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির তার বক্তব্যে কারখানাটির মালিককে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি তোলেন।

তিনি বলেন, ‘কাঠামোগত শ্রমিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মালিকপক্ষ সরকারি দলকে ম্যানেজ করে ফেলেছে। মরদেহ কেনাবেচার এই রাষ্ট্র আমরা চাইনি। হকারদের উচ্ছেদ করা, রিকশা শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেওয়া, গার্মেন্টসে ছাঁটাই করা ও শ্রমিকদের নির্যাতন করাই যেন জুলাই-পরবর্তী বিএনপি সরকারের অবস্থান!’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই শ্রমিক নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘আমরা শ্রমিক শ্রেণি চোখ রাখছি। কোনো ছলচাতুরির চেষ্টা করা হলে ছাত্র, শ্রমিক ও জনতাকে একত্রিত করে আমরা রাস্তায় নামব।’

সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ ইসহাক বলেন, ‘কৃষক ও শ্রমিক পাশে না থাকলে কোনো সরকারই ক্ষমতায় টিকতে পারে না।’তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে ইনসাফ কায়েম করার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন

অন্যান্যদের মধ্যে শ্রমিক নেতা ওয়াফি বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকদের জীবনের মূল্য সরকারের পক্ষ থেকে মাত্র ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে মামলা করে বন্ধ করার প্রস্তাবিত কারখানা যদি সরকারপক্ষকে টাকা দিয়ে পুনরায় চালু করা যায়, তবে বুঝতে হবে শ্রমিক নয়, বরং সরকারকেই কেনা যায়।’

যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন যুগ্ম সদস্য সচিব তৌফিক উজ জামান পীরাচা, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মামুন চাকলাদার এবং কৃষক নেতা মাহি পলাশ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল ইসলাম, ফরিদুল ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা নাহিদ, শামীম হোসেন, সালাউদ্দিন সালমান ও প্রীতম দাস প্রমুখ।

কাঠামোগত শ্রমিক হত্যা বন্ধে মানববন্ধন থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নিহত শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের তিন দফা দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি কারখানাগুলোতে কাজের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ওভারটাইম বন্ধ করার দাবিও তোলা হয়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শিপইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে নয়জন শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় নয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন।

কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad