অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপদাখালীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপদাখালীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
Advertisement
Advertisement

অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বৃদ্ধি পেয়েছে নেত্রকোনার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। সীমান্তের কলমাকান্দা উপজেলায় উপদাখালী নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন স্থানে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তীব্র স্রোতে একাধিক সড়ক ভেঙে বিঘ্নিত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। নদীভাঙনে ফসলি জমিতে বালু জমে নষ্ট হয়েছে আবাদি জমি, ভেসে গেছে শতাধিক মাছের পুকুর ও আমনের বীজতলা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য বলছে, সোমবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধীরে ধীরে তা ঢুকে পড়ছে নিম্নাঞ্চলে।

স্থানীয়রা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপজেলার নাজিরপুর ও লেংগুরা ইউনিয়নের নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। পানি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়ক ব্যবহারকারীরা।

লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, নলছাপ্রা বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কসহ ইউনিয়নের একাধিক জায়গায় রাস্তা ভেঙে গেছে। সীমান্তের চেংনী নদীর ভাঙনে প্রায় ৫০ একর ফসলি জমিতে বালু জমেছে। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ছোট-বড় শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক বলেন, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কাঁচা সড়ক ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন কাঁচা ও পাকা সড়কে ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আমনের বীজতলা ও শতাধিক মাছের পুকুরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, কলমাকান্দা উপজেলার প্রধান নদী উবদাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবন ও নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, জেলার দূর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর অংশে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তা বিপৎসীমার ২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং দূর্গাপুর অংশে ১ দশমিক ৯০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়াও পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া অংশে কংশ নদের পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে খালিয়াজুরি উপজেলায় কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ১৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং জেলা সদরের মগড়া নদীর পানি দশমিক ৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলেও জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা।

কলমাকান্দা উপজেলায় পানি বৃদ্ধিতে নিমজ্জিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হলেও এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সহায়তা চায় তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad