খুলনা নগরীর আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যার রহস্য ৩৬ ঘণ্টায় উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার পর নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ছেলের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মায়ের জবানবন্দিতে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকালে পরিবারের সঙ্গে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। মা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ সেখানে আসেন। মেয়ে শান্ত না হলে বাবা কাঠের চলা দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃত্যু হয়। খুনের পর বাবা-মা মেয়ের লাশ বস্তায় ভরে ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলেন। পরে বাবা মোটরসাইকেলে করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার রাস্তায় লাশ ফেলে আসেন।
পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। সকালে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য নির্জনা ঘর থেকে বের হয়। পরে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে আনা হয়। বিকালে ঘটনাটি ঘটে।
৮ জুলাই বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসআই লাভলী পাল জানান, নির্জনার মাথায় গভীর ক্ষত ও গলায় কালচে দাগ ছিল। ১০ জুলাই থানায় মামলা হয়। শুক্রবার মহানগর হাকিম ইব্রাহীম খলিল মুহিমের আদালতে মা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন। তখন তিনি দাবি করেছিলেন, মেয়ে বাড়ি ছাড়ার আগে চিঠি লিখেছিল, ‘আমার কোনো খোঁজখবর তোমরা নিও না’।
বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক থেকেও ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। তিনি স্ট্যাটাস দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছেন, মেয়ে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছিল। এ সপক্ষে তিনি একটি চিঠিও প্রকাশ করেন। পুলিশ জানায়, চিঠির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ পাওয়ার রাতে বাবার ফেসবুক থেকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সব কষ্ট ও দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ’।
আলীম হোসেন আকাশ টিকটক ভিডিও বানাতেন। নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী দাবি করলেও পেশার সত্যতা মেলেনি। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, নির্জনার বাবা মাদকাসক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।


