সমতলের শহরের মানুষ যখন বৃষ্টিকে উপভোগ করতে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায় ঠিক সে সময়ই পাহাড়ের মানুষ আতঙ্কে থাকে কখন প্রবল বৃষ্টিপাতে প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ডুবে যায় আর পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঘটে।
টানা ভারী বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে রাঙ্গামাটির বেশ কয়েকটি উপজেলা। জেলার জুরাছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি, বিলাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম টানা বর্ষণের কারণে প্লাবিত হয়েছে। দুর্গম বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামও প্লাবিত হয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে রাজস্থলী-ফারুয়ার সীমান্ত অরুণোদয় ভিউ পয়েন্টে পাহাড় ধসে পুরো রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ফারুয়া বাজার থেকে ফারুয়ার সাইচল ও জুরাছড়ির দুমদুম্যা ইউনিয়ন পর্যন্ত যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাজারগামী সীমান্ত সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রয়েছে।

এদিকে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো প্রকার ত্রাণ পৌঁছায়নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসীরা।
বৃষ্টির কারণে ফারুয়া ইউনিয়নের ফারুয়া বাজার, গোয়াইনছড়ি, চাইন্দ্যাছড়ি, শুকরছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, যমুনাছড়ি, উলুছড়ি, তক্তানালা ও ওরাছড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি,দোকানপাট,রাস্তা ও কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়াও ডুবে গেছে পাড়াকেন্দ্রসহ ধর্মীয় উপসনালয়।
ফারুয়া ইউনিয়নের এক বাসিন্দা সুদত্ত তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘ফারুয়াবাসীর কাছে বৃষ্টি মানে আতঙ্ক। বর্ষাকাল মানেই আতঙ্ক। অন্যরা যখন বৃষ্টিকে উপভোগ করে তখন আমরা মনে মনে ভাবি বৃষ্টির পানিতে কখন যে বাড়ি ঘর ডুবে যায়। তবে গত কালকের তুলনায় একটু একটু করে পানি কমা শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।’

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা উত্তম কুমার তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘ফারুয়ার প্রায় তিন হাজার ৪০০ পরিবার পানি বন্দী হয়ে ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে ফারুয়ার বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত হয়ে রাস্তা ডুবে গিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দোকানপাট, ঘরবাড়িও প্লাবিত হয়েছে। এ সময় প্রশাসন থেকে শুরু করে সব মহলের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘ফারুয়ার বিভিন্ন গ্রামে এখন হাঁটুসমান পানি হয়ে গেছে। এতে এখানকার প্রায় এক হাজারের অধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন। রাস্তাঘাট, বাড়ি, দোকানপাট ডুবে গেছে। এভাবে যদি টানা বৃষ্টি হয় তাহলে ফারুয়া ইউনিয়ন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘বিলাইছড়ি উপজেলাতে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ টানা বর্ষণে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফারুয়া ইউনিয়নে ১২ হাজারের অধিক মানুষ বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার।


