আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছিল ৪০ বছর বয়সী গোলকিপার ভোজিনিয়াকে নিয়ে। গ্রুপ পর্বে দুই সাবেক চ্যাম্পিয়নকে রুখে দেওয়া এই গোলকিপার বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরও প্রায় রুখেই দিয়েছিলেন। তবে ভোজিনহা-জুজু তাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে লিওনেল স্কালোনির দল, আর সেই সঙ্গে থামল কেপ ভার্দের রূপকথা।
শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এই জয়ের ফলে আগামী মঙ্গলবার রাতে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে আফ্রিকার পরাশক্তি মিশরের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা, যারা এই রাতে পেনাল্টি শুটআউটে (১)৪-২(১) ব্যবধানে জিতেছে। এদিকে ম্যাচটি জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে নিজের ১০০তম ম্যাচটি দারুণভাবে রাঙালেন লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য সহজ ছিল না। সপ্তম মিনিটেই প্রথম সম্ভাবনাময় আক্রমণ করে কেপ ভার্দে, তবে অধিনায়ক রায়ান মেন্দেস ডি-বক্সে খেই হারালে বিপদ ঘটেনি। এরপর আর্জেন্টিনা বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ালেও কেপ ভার্দের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না। অবশেষে প্রথমার্ধের হাইড্রেশন বিরতির পরপরই ২৯ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন লিওনেল মেসি। নিজেদের অর্ধ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত লং বল প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনায়াসেই ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
এই গোলের মাধ্যমে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ২০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন মেসি। সেই সঙ্গে বিশ্বকাপে টানা ৮ ম্যাচে গোল করার বিশ্ব রেকর্ডও গড়লেন তিনি। কাতার বিশ্বকাপে ৭ গোল করা মেসি এবার মাত্র ৪ ম্যাচেই করে ফেললেন ৭ গোল, যার ফলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক আসরে ৭ বা তার বেশি গোল করার অনন্য রেকর্ডটি এখন তাঁর।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফিরতে মরিয়া কেপ ভার্দে ৫৪ মিনিটে প্রথম বড় হুমকি তৈরি করে, তবে দিরয় দুয়ার্তের জোরাল নিচু শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। কিন্তু খানিক পরেই মেন্ডেসের ক্রস থেকে নিচু শটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের নিচ দিয়ে বল জালে জড়ান দুয়ার্তে। ১-১ সমতায় ফেরে ম্যাচ।
এরপর শুরু হয় ভোজিনিয়া বনাম মেসি দ্বৈরথ। ৬৩ মিনিটে মেসির শট আটকে দেওয়ার পর, ৭৩ মিনিটে বক্সের সামনে থেকে মেসির নেওয়া চমৎকার ফ্রি-কিক লাফিয়ে কর্নার করে দেন ভোজিনহা। ৮১ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের উদ্দেশ্যে আসা ক্রস ক্ষীপ্র গতিতে ক্লিয়ার করেন তিনি এবং যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে মেসির আরেকটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ডাবল সেভে রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান এই ৪০ বছর বয়সী দেয়াল। আর্জেন্টিনার সবশেষ ১৩টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের মধ্যে সাতটিই অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দূরের পোস্টে পেয়ে জোরাল শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। এটি জাতীয় দলের হয়ে তার দ্বিতীয় গোল। কিন্তু ১০৩ মিনিটে মাক আলিস্টারকে কাটিয়ে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে টপ কর্নার দিয়ে গোল করে কেপ ভার্দেকে আবারও ২-২ সমতায় ফেরান সিডনি লোপেজ কাবরাল। এর দুই মিনিট পর মেসির আরেকটি নিশ্চিত গোল বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা।
অবশেষে ১১১ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মেসির কর্নার থেকে বক্সে হেড নেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, যা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্হেসের গায়ে লেগে আত্মঘাতী গোল হিসেবে জালে জড়ায়। ম্যাচের বয়স যখন ১১৬ মিনিট, তখন কেপ ভার্দের একটি দুর্দান্ত ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দিয়ে কেন তাকে ‘বাজপাখি’ বলা হয় তা প্রমাণ করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। আর তাতেই ৩-২ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা।


