সুইজারল্যান্ডে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও গ্যাস বিক্রির ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী আগস্ট মাস পর্যন্ত ইরান বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানি করতে পারবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা একটি সমঝোতা স্মারকের শর্ত মেনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, ইরানের উৎপাদিত অপরিশোধিত তেল, পেট্রকেমিক্যাল এবং অন্যান্য খনিজ তেলজাত পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রির ওপর থাকা সব ধরনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হচ্ছে।
এই অনুমোদনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেও অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য ইরান থেকে জ্বালানি তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য আমদানি করতে পারবে।
এদিকে, এই কূটনৈতিক আলোচনার আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরান তাদের দেশে আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের আলোচনার প্রথম দিনটিকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে তিনি জানান, নিবিড় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পরই পরমাণু পরিদর্শনের বিষয়ে এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মূল পরমাণু ইস্যু নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়নি।
জ্বালানি রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ায় তেহরানের অর্থনীতি বড় ধরনের গতি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংকে আটকে থাকা প্রায় শত বিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল ফেরত পাওয়ার বিষয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান।
হোয়াইট হাউস অবশ্য আশ্বস্ত করেছে, এই অর্থ কেবল মানবিক কাজেই ব্যবহার করা যাবে, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা তাদের রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের একক সিদ্ধান্তে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে এসে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগ নীতির কারণে ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সূত্র: আল-জাজিরা


