রাজশাহীতে পারিবারিক কলহের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের লাঠির আঘাতে রেজাউল করিম (৬৫) নামে এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেহেরচণ্ডী বেড়ার মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজাউল করিম পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। অভিযুক্ত ছেলে রাকিবুল করিম (২৭) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রেজাউল করিম ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগমের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। সোমবার সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ছেলে রাকিবুল তার মায়ের পক্ষ নেন।
এ নিয়ে বাবার সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে রাকিবুল একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে বাবার মাথায় আঘাত করেন। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত হন। ঘটনার পর রাকিবুল মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত রেজাউল করিমকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে না। পারিবারিক কলহের জেরে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ছেলের আঘাতে বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাকিবুল পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ওই পরিবারে অশান্তি চলছিল।


