চলমান ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে এক অদ্ভুত দোলাচলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ইরানি আমেরিকানরা। একদিকে স্টেডিয়ামে প্রিয় দলের খেলা দেখার প্রস্তুতি। অন্যদিকে ইরানের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভের ডাক–সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছেন তারা।
লস অ্যাঞ্জেলেসের নিকটবর্তী স্টেডিয়ামের বাইরে একটি বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের পরিকল্পনা করেছেন প্রবাসীরা। এই এলাকায় ইরানের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম ইরানি জনগোষ্ঠীর বসবাস, যা স্থানীয়ভাবে ‘তেহরানজেলিস’ নামে পরিচিত।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর অনেক ইরানি দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। বিক্ষোভকারীরা ইরানের প্রাক-বিপ্লব আমলের ‘সিংহ ও সূর্য’ খচিত পতাকা ও টি-শার্ট পরে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মূলত জানুয়ারি মাসে ইরানে ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টিতে বসবাসরত ৫৯ বছর বয়সী পরামর্শক আলি জাভাহেরি বলেন, ‘আমি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচটি দেখতে ভেতরে যাব না, বাইরে প্রতিবাদ জানাব।’
তার মতে, ফুটবল আর রাজনীতি এখন অবিচ্ছেদ্য। যদিও তিনি খেলাধুলা ভালোবাসেন, কিন্তু বর্তমান জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা সরকারের কঠোর অবস্থানে থাকার চাপে আছেন বলে তিনি মনে করেন।
জাভাহেরি আরও বলেন, ‘এটি কোনোভাবে “টিম মেল্লি” (ইরানিদের কাছে জাতীয় দলের ডাকনাম) নয়, এটি আসলে “টিম ইসলামিক রিপাবলিক”।’
ইরানের এই অংশগ্রহণ শুরু থেকে নানা বিতর্কে জড়িয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির চলমান উত্তেজনার আঁচ এসে পড়েছে ফুটবল মাঠ পর্যন্তও। সুরক্ষার কথা ভেবে ইরান দল তাদের প্রশিক্ষণের ঘাঁটি অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া, দেশটির ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা পাননি।
ইরানি প্রবাসীদের অনেকে এখন এক কঠিন মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছেন। তারা তাদের প্রিয় ফুটবল দলকে সমর্থন জানাতে চান, কিন্তু একই সঙ্গে দেশের বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করতে চান। ফুটবল ও রাজনীতির এই জটিল সমীকরণে প্রবাসীদের মনে এখন শুধু উত্তেজনা নয়, বরং এক গভীর আক্ষেপও কাজ করছে।


