হরমুজ প্রণালি ফের চালু করতে মিত্ররা সহযোগিতা না করার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার পর এবার মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্ভাব্য বহুজাতিক উদ্যোগের প্রস্তুতি হিসেবে ফ্রান্সের পাশাপাশি নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে কিয়ার স্টারমারের সরকার।
স্থানীয় সময় শনিবার ব্রিটিশ সরকার জানায়, কেবল পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বে সম্ভাব্য ওই নিরাপত্তা মিশনে অংশ নিতে যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস ড্রাগনকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এইচএমএস ড্রাগন নামের এই আকাশ প্রতিরক্ষা ডেস্ট্রয়ারটি চলতি বছরের মার্চে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পূর্ব ভূমধ্যসাগরে পাঠানো হয়েছিল। তখন সাইপ্রাসের নিরাপত্তা জোরদারে এটি মোতায়েন করা হয়।
তবে সম্প্রতি ফ্রান্স তাদের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ লোহিত সাগরে মোতায়েনের পর যুক্তরাজ্যও তাদের জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ইউরোপীয় দেশ দুটি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচলে আস্থা ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষামূলক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘এইচএমএস ড্রাগনকে আগে থেকেই হরমুজের কাচকাছি মোতায়েন রাখা সতর্কতামূলক পরিকল্পনার অংশ। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের যৌথ নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক জোটের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত থাকবে।’
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এরইমধ্যে এক ডজন দেশ এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
তবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে হরমুজে বেসামরিক জাহাজ চলাচলে নিরপাত্তা নিশ্চিত করতে হলে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
সম্ভাব্য নিরাপত্তা মিশনে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণও সীমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, দেশটির রয়্যাল নেভি আগের তুলনায় এখন অনেক ছোট এবং দীর্ঘদিন ধরেই জনবল ও যুদ্ধজাহাজ সংকটে ভুগছে। নতুন জাহাজ হাতে পাওয়ার আগেই কয়েকটি পুরোনো জাহাজ অবসরে পাঠাতে হয়েছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীকে।
সূত্র: রয়টার্স


