রাজধানীর শাহবাগ হাবিবুল্লাহ সড়কে একটি মেসে আবিদ হাসান জিসান (২৬) নামে এক চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি ধানমন্ডি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তার বন্ধু ও রুমমেট অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আবিদের বন্ধু ও রুমমেট দীপ্ত সিংহ জানান, তারা একসঙ্গে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। গত বছর একই কলেজ থেকে ইন্টার্নশিপ শেষ করেন। তিন মাস আগে ধানমন্ডি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেডিসিন বিভাগে চাকরি নেন আবিদ। দুজন একসঙ্গে শাহবাগ হাবিবুল্লাহ সড়কের একটি মেসে থাকতেন।
দীপ্ত বলেন, ‘আমি সোমবার সকালে মেস থেকে বের হওয়ার সময় তাকে রুমে স্বাভাবিক দেখে গিয়েছি। দুপুর ১টার দিকে আবিদের বড় ভাই জাহিদ হাসান ফোন দিয়ে আমাকে বলেন, আবিদ ফোন ধরছে না, বিষয়টা একটু দেখতে। এরপর বাসায় গিয়ে আবিদকে বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। কয়েকবার ডেকেও কোনো সাড়াশব্দ পাইনি। এরপর দ্রুত আবিদকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাই। চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত বলে জানান। আবিদের হাইপ্রেসার ছিল। নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন।’
আবিদের বড় ভাই জাহিদ হাসান জানান, তাদের বাড়ি চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার পলাশপাড়া গ্রামে। বাবার নাম আহসান হাবিব। দুই ভাইয়ের মধ্যে জিসান ছিল ছোট।
তিনি বলেন, ‘জিসান খুবই আদরের ছিল। প্রতিদিন দুই থেকে তিনবার ফোন করে ওর খবর নিতাম। আজ সকালে একবার ফোন করে কথা বলি। দুপুরে অনেকবার ফোন দিয়ে তাকে পাইনি। পরে ওর বন্ধু দীপ্তকে ফোনে বিষয়টা বলি। পরে হাসপাতালে এসে শুনি জিসান আর নেই। জিসানের হাইপ্রেসার ছিল। নিয়মিত ওষুধ সেবন করত। কীভাবে ওর মৃত্যু হলো আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’
চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শাহবাগ থানায় জানানো হয়েছে।


