ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নাসার ১ বছরের বাজেটের সমান

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় নাসার ১ বছরের বাজেটের সমান
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম যুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র।

পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জুলস হার্স্ট প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির সদস্যদের জানান, মোট ব্যয়ের বেশিরভাগই গোলাবারুদের জন্য খরচ হয়েছে। তবে তিনি ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেননি।

বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামোগত মেরামত ও পুনর্গঠনের সম্ভাব্য খরচ এই হিসাবের মধ্যেই রয়েছে কি না, সেটিও তিনি পরিষ্কার করেননি।

পরিসংখ্যান বলছে, ইরানের বিরুদ্ধে এক মাসের কিছু বেশি সময়ের যুদ্ধে ব্যয় করা এই ২৫ বিলিয়ন ডলার চলতি বছর মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার জন্য নির্ধারিত বাজেটের সমান। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই হিসাব নির্ধারণ করেছে, তা এখনো অস্পষ্ট। কারণ গত মাসে একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ব্যয় হয়েছিল অন্তত ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের কাছে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এরইমধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিরা জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছে। তারা কোনো উস্কানি ছাড়া ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়কে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পেছনে দায়ী করে নির্বাচনি প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন

প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র পরিষেবা কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ হার্স্টের জবাবে বলেন, ‘আপনি এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, এতে আমি খুশি। কারণ আমরা অনেক দিন ধরেই এই তথ্য চাইছিলাম, কিন্তু কেউ আমাদের প্রকৃত সংখ্যা জানাচ্ছিল না। যুদ্ধের পেছনে খরচ করা প্রতিটি অর্থ মার্কিন জনগণের কষ্টে অর্জিত। তাদের পরিশ্রমের অর্থ কোথায়, কীভাবে ব্যয় হচ্ছে তা জানানো উচিত।’

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, সেই লক্ষ্য বিবেচনায় এই ব্যয় ন্যায্য। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘ইরানকে পারমাণবিক বোমা থেকে বিরত রাখতে আপনি কত খরচ করতে রাজি?’

এটি কোনো জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা নয়’ দাবি করে হেগসেথ আরও জোরালো ভাষায় ইরান যুদ্ধের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা “দুর্বল, অদক্ষ ও পরাজয়” মেনে নিতে মুখিয়ে আছেন।’

যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। বর্তমানে উভয় পক্ষ একটি টালমাটাল যুদ্ধবিরতি বজায় রাখছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পেন্টাগন এখনো মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি তিনটি বিমানবাহী রণতরীও মোতায়েন রেখেছে।

এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক সেনা আহত হয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে। রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন। যা এপ্রিলের মাঝামাঝিতে ছিল ৩৬ শতাংশ এবং মার্চের মাঝামাঝিতে ছিল ৩৮ শতাংশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad