চলতি বছরের প্রথম আট মাসে দেশে ৩৯০ কন্যাশিশু ধর্ষণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৩ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার এবং ২৯ জন প্রতিবন্ধী কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের পর ১৫ শিশু খুন হয়েছে এবং ৫ জন আত্মহত্যা করেছে।
জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনের তৈরি করতে সহায়তা করেছে এডুকো বাংলাদেশ। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর সৈয়দা আহসানা জামান এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে, ২০২৩ সালে ৪৯৩ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হলেও ২০২৪ সালের প্রথম ৮ মাসে এই সংখ্যা ছিল ২২৪ জন, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু ২০২৪ সালে ৩৯০ কন্যাশিশুর ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। একই সময় ১৩৪ কন্যাশিশু ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিআইবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে ২০ দশমিক ২৩ শতাংশ মাদকাসক্ত এবং ২৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত। ৭২ দশমিক ৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী কন্যাশিশু এবং অধিকাংশ ভুক্তভোগী অতিদরিদ্র পরিবারের সদস্য।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত অপহরণ ও পাচারের শিকার ৩৪ কন্যাশিশু মধ্যে ১৮ শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া, ১০৪ কন্যাশিশু আত্মহত্যা করেছে, এর মধ্যে ১৫ জন ধর্ষণের পর, ৪ জন যৌতুকের কারণে, ৩১ জন পারিবারিক নির্যাতনে, ৯ জন পূর্বশত্রুতার কারণে এবং ৫ জন প্রেমের সম্পর্কের কারণে খুন হয়েছে।
এ ছাড়া, চলতি বছরের প্রথম ৮ মাসে ৫৪ কন্যাশিশু যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সংকটের সমাধানে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ১১টি সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে যৌন হয়রানি ও সুরক্ষা প্রতিরোধে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ অনুমোদন এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল গঠনের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, প্রতিবেদনটিতে আইন সংস্কারের প্রস্তাব, দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান, এবং বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।


