অন্তর্বর্তী সরকারের ১১ মাসে বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক সাংবাদিক নির্যাতন চলছে বলে অভিযোগ করেছেন ৮৮ জন প্রবাসী সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিক্ষক-গবেষক, সংস্কৃতি ও অধিকারকর্মী। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে এ অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিগত ১১ মাসে অন্তত ৪১২ জন সাংবাদিককে হত্যা মামলাসহ হয়রানিমূলক নানারকম মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তিন শতাধিক সাংবাদিকের ওপর। শতাধিক সাংবাদিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ। হেনস্তামূলক দুর্নীতির মামলা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমশিনে, বিবৃতিতে যোগ করেন তারা।
এতে আরও বলা হয়, ঢাকাসহ সারাদেশের এক হাজারের বেশি সাংবাদিকের চাকরিচ্যুতি, ১৬৮ সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সারাদেশের প্রেস ক্লাবগুলো থেকে ১০১ জন সাংবাদিকের সদস্যপদ স্থগিত, বাতিল ও বহিষ্কার এবং মিডিয়া দখলের মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে ১০ জন সাংবাদিক নিহত এবং অগণিত সাংবাদিক আহত হলেও সরকারের তরফ থেকে আক্রান্ত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের প্রতি কোনো সহযোগিতার হাত প্রসারিত হয়নি, বরং নির্যাতনের কালো হাতের সম্প্রসারণ ঘটেছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব নির্যাতন ও নিপীড়নের ফলে অনেক সাংবাদিক ও তাদের পরিবার অবর্ণনীয় মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কষ্ট ভোগ করছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে।
গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোথাও ঘটেছে বলে আমাদের জানা নেই। সাংবাদিকদের ওপর নজিরবিহীন নির্যাতন ও বাক্স্বাধীনতা হরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এ বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন-সৈয়দ বদরুল আহসান, মুকিদ চৌধুরী, সুজাত মনসুর, আশেকুন নবী চৌধুরী, সৈয়দ আনাস পাশা, মোহাম্মদ মকিস মনসুর, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, টি এম আহমদ কায়সার, জেসমিন চৌধুরী, সফিয়া জাহির প্রমুখ।


