নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দেশের ছয়টি হাসপাতালে সমন্বিত মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ইমপ্যাক্ট) প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাতিসংঘের প্রকল্প সেবা কার্যালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘কনসালটেটিভ ওয়ার্কশপ অন দ্য ইন্টিগ্রেটেড মেডিকেল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (ইমপ্যাক্ট)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় ছয়টি সরকারি হাসপাতালে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এতে বর্জ্য সংগ্রহ ও পৃথকীকরণ ব্যবস্থা, সংক্রামক বর্জ্য জীবাণুমুক্ত করার জন্য মাইক্রোওয়েভ ও অটোক্লেভ প্রযুক্তি, উচ্চ তাপমাত্রার ইনসিনারেটর এবং তরল চিকিৎসা বর্জ্য পরিশোধনের জন্য এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন করা হবে।
কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি হাসপাতালের বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পৃথকভাবে অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সক্ষমতা নির্ধারণ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং হাসপাতালভিত্তিক নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। অপরিকল্পিতভাবে চিকিৎসা বর্জ্য ফেলা বা পোড়ানোর ফলে পরিবেশ দূষণ, সংক্রমণ বিস্তার এবং জলবাহিত রোগের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে হাসপাতালেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করা হবে। এতে সংক্রামক উপাদান ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি তরল বর্জ্য পরিশোধনের পর নিরাপদভাবে নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক এই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জাপান সরকার এবং বৈশ্বিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি । প্রতিষ্ঠানটি তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের আওতায় এ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে।
২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ, প্রযুক্তি স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন শেষে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালভিত্তিক আধুনিক চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি মডেল তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।
সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক এই প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জাপান সরকার এবং বৈশ্বিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি । প্রতিষ্ঠানটি তাদের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিলের আওতায় এ প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।


