দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙেছিল। হারিয়েছিলেন ঘরবাড়ি, পরিবার ও মানসিক ভারসাম্য। অবশেষে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর স্বজনদের কাছে ফিরেছেন বৃদ্ধ ইসাক মিয়া (৭০)।
মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন ইসাক মিয়াকে তার ভাগনে ও ভাতিজার কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার, থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিরুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসাক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাদু মিয়ার ছোট ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আশির দশকে লন্ডনে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুই বিঘা ফসলি জমি ও ৪০ শতাংশ বসতভিটা ৭৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে সিলেটে যান ইসাক। সেখানে দালালের প্রতারণায় সব হারিয়ে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। লোকলজ্জা ও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় আর বাড়ি ফেরেননি। দীর্ঘ ৪৫ বছর দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন ও পথে-পথে ঘুরে কেটেছে তার জীবন।
সম্প্রতি কুমারখালী রেলস্টেশনে অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিলেন ইসাক। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তার চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে তাকে নিয়ে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ হলে পরিবারের সদস্যরা তার সন্ধান পান।

স্টেশনের বিশ্রামাগারে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ ইসাক। স্বজনদের পেয়ে উপস্থিত সবাই আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন।
ইসাকের ভাগনে বাচ্চু মিয়া জানান, তার মায়েরা সাত ভাই-বোন ছিলেন। তাদের মধ্যে কেবল ইসাক মিয়াই বেঁচে আছেন। বাবার মুখে শোনা চাচাকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত ভাতিজা তাহের মিয়াও। আরেক ভাগনে সাজাহান মিয়া বলেন, ‘অনলাইনে ভিডিও দেখে মামাকে শনাক্ত করি। তার বাড়িতে এখন কেউ নেই। আমরাই তার চিকিৎসা ও দেখভাল করব।’
ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে ইসাক মিয়া বলেন, ‘বিদেশ যাওয়ার লাইগা সম্পত্তি বেইচা সিলেট গিছলাম। দালালে টেহা মাইরা দিছে। পাগলের মতো পথে পথে ঘুরছি। আজ ভাগনে নিতে আইছে। বাড়ি যামু। ভাল লাগছে।’
ইউএনও ফারজানা আখতার বলেন, ‘যাচাই-বাছাই শেষে ইসাক মিয়াকে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার বাড়ি ফেরার বিষয়টি অত্যন্ত আনন্দের।’


