টানা ভারী বর্ষণে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে চট্টগ্রাম। গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরের অধিকাংশ এলাকা পানির নিচে। ১৯৮৩ সালের পর গত ৪৩ বছরে এমন রেকর্ড বৃষ্টি দেখেনি চট্টগ্রামবাসী। প্রবল বর্ষণে স্থবির জনজীবনের মাঝেই পাঁচলাইশের রহমান নগরে দেয়াল ধসে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন দুই শিশুসহ তিনজন। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এই বৃষ্টি শুক্রবার পর্যন্ত চলতে পারে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সুমন বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।’ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিন জানান, ৫ থেকে ৭ জুলাই সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে রহমান নগর আবাসিক এলাকায় ৪৩ বছরের পুরোনো একটি সীমানা প্রাচীর ধসে শফিকুল ইসলাম (৩৫) নামের ওই ব্যবসায়ী নিহত হন। গুরুতর আহত তার দুই সন্তান ও শাশুড়ি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ভবন মালিকের দাবি, তাদের না জানিয়ে পানি সরানোর জন্য দেয়ালে ছিদ্র করায় স্রোতের টানে সেটি ধসে পড়ে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।
নগরের আগ্রাবাদ, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চান্দগাঁও ও বাকলিয়ার সড়ক এখন পানির নিচে। বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় বন্ধ রয়েছে স্বাভাবিক কাজকর্ম। স্থগিত করা হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা। শাহ আমানত বিমানবন্দরে তিনটি ফ্লাইটের সময়সূচি বদলাতে হয়েছে। পতেঙ্গা সৈকতসংলগ্ন সড়কের একাংশ ধসে একপাশে যান চলাচল বন্ধ।
জান আলী হাট এলাকায় রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ মাঝপথে আটকে পড়ে। রেললাইনে গাছ ভেঙে পড়ায় দোহাজারী স্টেশনে থামিয়ে দেওয়া হয় কক্সবাজার থেকে আসা ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’। এতে কক্সবাজারের সঙ্গে চট্টগ্রামের রেল যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিন জানান, তাদের ড্রেনেজ মডেলটি সর্বোচ্চ ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি সামলানোর উপযোগী। বৃষ্টি এই সীমা ছাড়ানোয় এবং পাহাড়ি বালুতে নালা ভরাট হওয়ায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। প্রকল্পের ৯৮ শতাংশ কাজ শেষ, আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাকিটা শেষ হবে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
আগামী ২৪ ঘণ্টা পাহাড়ধসের প্রবল আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরাতে মাইকিং চলছে। জেলা প্রশাসন ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে ব্র্যাক প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১০ জন, ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলে ৪০ জন, ইলমুল কোরআন মাদ্রাসায় ৫০ জন ও আল হেরা মাদ্রাসায় ১৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন।


