৪২ ফুট গভীরেও সন্ধান মেলেনি শিশু সাজিদের

৪২ ফুট গভীরেও সন্ধান মেলেনি শিশু সাজিদের
তানোর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে কাজ করছেন | ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

রাজশাহীতে দুই বছরের শিশু সাজিদকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টা ধরে, কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের সরু গর্তে পড়ে যায় শিশুটি।

বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা টানা রাতে কাজ চালিয়ে গর্তের পাশে বড় আকারের একটি খনন তৈরি করেন, যাতে সরু গর্তটিতে পৌঁছানো যায়। কিন্তু মাটির ৪২ ফুট নিচে নামার পরও শিশুটিকে পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালক তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তারা এখন পর্যন্ত খনন করে কোনো চিহ্ন পাননি। তবে অভিযান বন্ধ হবে না।

তিনি বলেন, শিশুটি মাটির আরো গভীরে থাকলেও তারা খনন চালিয়ে যাবেন।

এ সময় তিনি আরও জানান যে তাদের সক্ষমতা কতটুকু, সেটি মুখ্য বিষয় নয়, বরং শিশুটিকে উদ্ধার করা এখন প্রধান কাজ।

বুধবার দুপুরে সাজিদ খেলতে খেলতে হঠাৎ নলকূপ খননের জন্য আগে থেকে তৈরি একটি সরু গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির  ৮ ইঞ্চি, ফলে শিশুটি নিচে কোথায় আটকে আছে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না উদ্ধারকারী দল।

গর্তটির পাশে এক্সক্যাভেটর দিয়ে বড় একটি গর্ত খনন করা হয় এবং তা মূল গর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। তবুও পাওয়া যায়নি শিশুটিকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ৪২ ফুট পর্যন্ত নেমে এসে আবার ওপরে উঠতে বাধ্য হন।

আরও পড়ুন

উদ্ধার অভিযানকে ঘিরে আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ সারা রাত মাঠে দাঁড়িয়ে কাটিয়েছেন। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু–সবাই অপেক্ষা করছেন একটি আশার খবর পাওয়ার জন্য।

সেখানে বসে আছেন সাজিদের মা রুনা খাতুন, চোখে অশ্রু, মুখে গভীর আতঙ্ক। তিনি বলেন, তার তিন ছেলের মধ্যে সাজিদ মেজ।

ঘটনাস্থলের কাছে তাদের একটি ট্রলি মাটিতে দেবে গিয়েছিল। রুনা তখন ছোট ছেলে সাদমানকে কোলে নিয়ে এবং সাজিদের হাত ধরে সেখানে আসেন। ফেরার পথে মুহূর্তের অসাবধানতায় সাজিদ গর্তে পড়ে যায়।

তিনি জানান, সামনে হাঁটার সময় হঠাৎ পেছন থেকে সন্তানকে ডাকতে শুনে ফিরে তাকিয়ে দেখেন সাজিদ আর নেই। শুধু নিচ থেকে মৃদু মা মা ডাকার শব্দ শুনতে পান। এরপর শুরু হয় তার দুশ্চিন্তা এবং এলাকাবাসীর ডাকাডাকি।

উদ্ধার অভিযানে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও তানোরসহ বিভিন্ন এলাকার আটটি ফায়ার সার্ভিস দল কাজ করছে।

সেখানে ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। মাটি কাটার জন্য তিনটি ভেকু মেশিনও কাজে লাগানো হয়েছে।

লিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসনের কর্মকর্তারা সবাই উদ্ধার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটি বহুদিন ধরেই তীব্র খরাপ্রবণ। পানির স্তর অনেক গভীরে হওয়ায় নলকূপ বসানোর আগে বিভিন্ন জায়গায় বোরিং করে দেখা হয় কোথায় পানি পাওয়া যেতে পারে। এই গর্তটিও তেমনই একটি পরীক্ষামূলক বোরিং।

পরে পানি না পেয়ে গর্তটি ফেলে রাখা হয়। সাধারণত এ ধরনের পরিত্যক্ত গর্ত ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীর হয়। সে কারণে শিশুটি ঠিক কতটুকু নিচে অবস্থান করছে তা নিশ্চিত নয়।

শিশুটির বাবা রাকিবুল ইসলাম ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানের গুদামে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন।

পরিবারের সবাই এখন ঘটনার জায়গায় জড়ো হয়েছেন এবং শিশুটিকে উদ্ধারের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শিশুটিকে না পাওয়া পর্যন্ত তাদের প্রচেষ্টা থামবে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad