আগামী ৩ মার্চ থেকে ট্রেনে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। ফিরতি যাত্রার টিকিট মিলবে ১৩ মার্চ থেকে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রয় করা হবে। এছাড়া ঈদযাত্রায় নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি বিভিন্ন রুটে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ১৩ থেকে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট পাওয়া যাবে। একইভাবে ১৩ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ২৩ থেকে ২৯ মার্চের ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি করা হবে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলরত ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টা এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুপুর ২টা থেকে ইস্যু করা হবে। একজন যাত্রী ঈদ ও ফিরতি যাত্রায় সর্বোচ্চ একবার এবং সর্বোচ্চ চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন। তবে এই টিকিটগুলো কোনোভাবেই ফেরতযোগ্য হবে না। এছাড়া ২০ থেকে ২২ মার্চের টিকিট বিক্রয় নির্ভর করবে ঈদের চাঁদ দেখার ওপর। অনলাইনে সব টিকিট শেষ হলেও যাত্রার দিন স্টেশন কাউন্টার থেকে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট কেনা যাবে।
বিশেষ ট্রেনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল-১ ও ২, ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুটে তিস্তা স্পেশাল-৩ ও ৪, ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ রুটে শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল এবং জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটে বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী বিশেষ ট্রেনটি দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাবে এবং চাঁদপুর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছাড়বে ভোর ৪টায়। ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশ্যে বিশেষ ট্রেনটি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে যাত্রা করবে। এছাড়া শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেনগুলো ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করবে। জয়দেবপুর-পার্বতীপুর রুটের বিশেষ ট্রেনটি জয়দেবপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় এবং পার্বতীপুর থেকে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে ছাড়বে। তবে ঈদের পর এই ট্রেনের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে।
যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে ১৬ মার্চ থেকে ঈদের পূর্বদিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনের সব সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এই সময়ে জয়দেবপুর ও ঢাকার মধ্যে এবং বিমানবন্দর ও ঢাকার মধ্যে আন্তঃনগর ট্রেনের কোনো টিকিট ইস্যু করা হবে না। এছাড়া একতা, দ্রুতযান, নীলসাগর ও রংপুর এক্সপ্রেসসহ উত্তরবঙ্গগামী বেশ কিছু ট্রেন ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে না। সুন্দরবন, মধুমতি ও বেনাপোল এক্সপ্রেসসহ নির্দিষ্ট কিছু ট্রেন ঢাকা স্টেশনের শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যাবে।
স্টেশনগুলোতে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ রোধে জিআরপি, আরএনবি, পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। চলন্ত ট্রেন ও রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নজরদারি চালাবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টিকিট কালোবাজারি রোধে সতর্ক দৃষ্টি রাখার পাশাপাশি এ ধরনের কোনো তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলপথের নিরাপত্তা ও সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় জোনাল ও ডিভিশনাল পর্যায়ে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা রোধে রেললাইন ও সেতুগুলোতে নিবিড় টহল এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনের বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রিলিফ ট্রেনগুলো সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে। মালবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে ১৯ মার্চ মধ্যরাত থেকে ঈদের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত জ্বালানি ও কন্টেইনারবাহী ট্রেন ছাড়া সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।


