দীর্ঘ ২৩ বছর পর ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন ঘিরে জেলার সর্বস্তরের বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উদ্দীপনা।
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে নিহত রায়হানুল হাসান, আল মামুন, সাহান পারভেজ ও রাকিবুল হাসানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিতেই ঠাকুরগাঁও আসছেন তিনি।
জেলা দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোমবার রাতেই তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও পৌঁছাবেন এবং শহরের বুরো বাংলাদেশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের গেস্ট হাউসে থাকবেন।
পরদিন মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নিহত আল মামুনের কবর জিয়ারত করবেন। গণঅভ্যুত্থানে নিহত আরও তিনজনের কবর জিয়ারতের কথা থাকলেও কবরগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে হওয়ায়, সময় ও কর্মসূচির সীমাবদ্ধতার কারণে শুধু আল মামুনের কবরেই শ্রদ্ধা জানানো হবে বলে জানিয়েছে জেলা বিএনপি।
এরপর বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। কর্মসূচি শেষ করে একই দিন তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, ‘আগামী ১২ জানুয়ারি সড়কপথে তিনি ঠাকুরগাঁও আসবেন। তাই তার শহরে পৌঁছানোর নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা যাচ্ছে না। এর আগে সর্বশেষ ২০০৩ সালের শীতকালে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ে কম্বল বিতরণ কর্মসূচিতে এসেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবার তারেক রহমানের আগমন নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এ উপলক্ষে আমরা একাধিক প্রস্তুতি সভা করেছি। প্রশাসনকে নিরাপত্তার বিষয়ে অবগত করেছি। নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে বড় জনসভার সুযোগ না থাকলেও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত।’
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


