আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু ভোট দেওয়ার আয়োজন নয়, এটি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার বিকালে বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছে, আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বিরামপুরে তার নানা বাড়ির স্মৃতিচারণ করেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, এই মঞ্চের পাশে জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত আছেন, যাদের স্বজনরা দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
তিনি দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একাধিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে দিনাজপুরের বিখ্যাত লিচু ও আম সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন, রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা এবং জেলার চাল বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের পানির সংকট নিরসনে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা পুনরায় চালুর অঙ্গীকার করেন।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সরকার সাধারণ মানুষের জন্য যে কর্মসূচি নেবে, তার রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি গৃহিণী ও খেটে খাওয়া নারীর কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষি কার্ড’, যার মাধ্যমে সরাসরি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, ক্ষুদ্র কৃষক ও প্রান্তিক মানুষের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ এবং এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণের দায় সরকার বহন করবে।
শিক্ষা খাতে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে, শিক্ষকদের কম্পিউটার দেওয়া হবে এবং তরুণদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে।
স্বাস্থ্য ও ধর্মীয় খাতে উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে এক লাখ ‘হেলথ কেয়ারার’ নিয়োগ দেওয়া হবে এবং ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের পরিচয় ধর্ম বা জাত দিয়ে নয়, বরং মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে নির্ধারিত হওয়া উচিত। তিনি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী-সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশই তার প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আমাদেরও লক্ষ্য হওয়া উচিত ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
জনসভা শেষে তিনি মঞ্চে উপস্থিত দিনাজপুর জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।


