ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের একটি বিমান ১১ জন আরোহী নিয়ে মাঝ-আকাশে নিখোঁজ হওয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
পিকে-টিএইচটি ফ্লাইটের এটিআর ৪২-৫০০ টার্বোপ্রপ বিমানটি যোগকর্তা থেকে সুলাওয়েসি দ্বীপের মাকাসারে যাচ্ছিল।
স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১টার কিছু পরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটিতে তিনজন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য ছিলেন।
মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, মারোস রিজেন্সির পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। এই এলাকাটি মাকাসারের সীমান্তবর্তী এবং যেখানে বিমানটির সংকেত সর্বশেষ পাওয়া গিয়েছিল তার খুব কাছে। ফ্লাইট-ট্র্যাকিং সার্ভিস ‘ফ্লাইটরাডার২৪’ অনুসারে, মাকাসার বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে বিমানটির সর্বশেষ সংকেত শনাক্ত করা হয়েছিল।
মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার অপারেশন প্রধান অ্যান্ডি সুলতান জানান, এই উদ্ধার অভিযানে বিমানবাহিনী, পুলিশ এবং বেসামরিক স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নিচ্ছেন। নিখোঁজ বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করতে উদ্ধারকারীরা আকাশপথে হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করছেন, পাশাপাশি স্থলপথেও দলগুলো কাজ করছে।
হাজারো দ্বীপের বিশাল দেশ ইন্দোনেশিয়া যোগাযোগের জন্য আকাশপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কিছু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণে দেশটির বিমান নিরাপত্তার রেকর্ড বেশ দুর্বল।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কালিমান্তান প্রদেশে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় আটজন আরোহী নিহত হন। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে পাপুয়ার প্রত্যন্ত ইলাগা জেলায় আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় চারজন প্রাণ হারান।
কর্তৃপক্ষ এখনও পিকে-টিএইচটি ফ্লাইটের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পায়নি এবং সুলাওয়েসির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


