জামালপুরে মাত্র ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন মেটাতে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক চালককে হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহ একটি লাগেজে ভরে ধান খেতে ফেলে রাখা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই এসব তথ্য জানায়।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন মূল অভিযুক্ত মো. নাহিদুল ইসলাম (৩০)। এ ছাড়া চোরাই ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ কেনা ও পরিবহনের অভিযোগে মো. সোলাইমান কবির (৫০), মো. শফিকুল ইসলাম (৪১), মো. আব্দুল কাদের (৫৬), মো. রাসেল হোসেন (৩৪) এবং সাগর পাশাকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের একটি ধান খেত থেকে লাগেজবন্দি অবস্থায় ইজিবাইক চালক নায়েব আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের কাজাইকাটা এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার পর নিহতের ছেলে মামুন ইসলাম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তভার পেয়ে পিবিআই তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মেলান্দহ উপজেলার নাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআই জানায়, জরুরি ভিত্তিতে ১০ হাজার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় নাহিদুল ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নায়েব আলীকে হত্যা করে মরদেহ লাগেজে ভরে ফেলে রাখা হয়। পরে ইজিবাইকটি খুলে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
এ ঘটনায় নাহিদুলসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত জিআই তার, নিহতের মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং আলামত উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


