হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে প্রথমবার শেষ আটে নরওয়ে

হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে প্রথমবার শেষ আটে নরওয়ে
শেষ ১৬-এর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় গোল করার পর আন্দ্রেয়াস শিয়েলদারুপের সঙ্গে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের উদযাপনের মুহূর্ত। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ডালাসে জমে উঠেছিল শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। পুরো ম্যাচজুড়ে সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না ব্রাজিল। সেই সুযোগের অপচয়ের শাস্তি দিয়ে শেষ দিকে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও সেটি শুধু সান্ত্বনাবৃদ্ধি করেছে সেলেসাওদের।

সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ডালাসে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল আর নরওয়ে। দারুণ লড়াই শেষে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে।

শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। বল দখল ও সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে থাকলেও গোলের দেখা মেলেনি। ১৩তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি হয়ে ওঠে ম্যাচের প্রথম বড় টার্নিং পয়েন্ট। ব্রুনো গুইমারায়েস থেমে থেমে দৌড়ের রান আপ নিয়ে শট দিলেও তা যথেষ্ট শক্তিশালী বা কোণাকুণি ছিল না। নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নাইল্যান্ড দারুণভাবে দিক বুঝে বল ঠেকিয়ে দেন। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল।

এরও আগে, ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে নরওয়ে বল জালে জড়িয়েছিল। তবে অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ব্রাজিল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও ক্যাসেমিরোর দারুণ ভাসানো পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন।

অন্যদিকে, আর্লিং হলান্ডের তৈরি করা আক্রমণ থেকে মার্টিন ওডেগার্ড নিচের কোণ লক্ষ্য করে শট নিলেও দুর্দান্ত দক্ষতায় তা রুখে দেন অ্যালিসন। এই পেনাল্টি মিসের মধ্য দিয়ে ব্রাজিলের দীর্ঘদিনের একটি অনন্য রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটে। ১৯৮৬ সালে জিকোর মিসের পর বিশ্বকাপের মূল সময়ে সেলেসাওদের শতভাগ সফল পেনাল্টীর ধারাও থেমে যায়। প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও গোল করতে পারেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ব্রাজিল। ৬০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই এন্ড্রিক গোলের সুবর্ণ সুযোগ পান। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের পায়ের বাইরের দিক দিয়ে দেওয়া দুর্দান্ত পাসে একা এগিয়ে গেলেও দ্রুত বেরিয়ে এসে কোণ ছোট করে দেন নাইল্যান্ড। ফলে এন্ড্রিকের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

আরও পড়ুন

৬৪তম মিনিটে আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন নাইল্যান্ড। রায়ানের ডিফ্লেক্ট হওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেওয়ার পর দ্রুত সামনে এগিয়ে এসে ব্রাজিলের আরেকটি বিপজ্জনক আক্রমণও থামিয়ে দেন তিনি। ব্রাজিলের মুহূর্মুহূ আক্রমণের সামনে নরওয়ের গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ যেন অদম্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।

অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে নরওয়ে। ৭৫তম মিনিটে হলান্ডের তৈরি করা সুযোগ থেকে শেলদেরুপ শট নিলেও সহজেই বলটি গ্লাভসবন্দি করেন অ্যালিসন।

অবশেষে ৮০তম মিনিটে ভাঙে দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থা। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে বক্সের ভেতরে অসাধারণ টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে নিজের ট্রেডমার্ক হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। তার শক্তিশালী হেডে অ্যালিসনের কিছুই করার ছিল না। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাজিল। তবে নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আবারও আঘাত হানেন হলান্ড। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার বজ্রগতির শট অ্যালিসনকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। দুর্দান্ত এই গোলে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার এবং দলের ব্যবধান ২-০ করেন।

যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পায়। স্পট কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে দিয়ে ব্যবধান কমান নেইমার। তবে তার এই গোলটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে নরওয়ে। হলান্ডের জোড়া গোলেই শেষ আটের টিকিট নিশ্চিত হয় তাদের।

ম্যাচের নায়ক ছিলেন আর্লিং হালান্ড। আর গোলরক্ষক অরইয়ান নাইল্যান্ডের একের পর এক দুর্দান্ত সেভ নরওয়ের এই স্মরণীয় জয়ের ভিত গড়ে দেয়। সুযোগের অপচয়ই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় ব্রাজিলের, আর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দারুণ দক্ষতায় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে নরওয়ে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad