দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এর মধ্যে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে সন্দেহজনক হামের কারণে এবং একজনের মৃত্যু ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে। এর আগে ৪ মে একদিনে হাম ও উপসর্গে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১২৭ জন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯৭ জন।
সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হামে ৪৫৮ জন এবং নিশ্চিত হামে ৮৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সামগ্রিক হাম পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪০ জনে। ল্যাব পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৭১৯ জন।
এই প্রাদুর্ভাবের সময়ে মোট ৫১ হাজার ৫৮৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৭ জন। অপরদিকে, এ পর্যন্ত মোট ৪৭ হাজার ৬১৯ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টার সুস্থতার সংখ্যা ১ হাজার ৪০৫ জন।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে। অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে ছয়জন, সিলেটে তিনজন এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও বরিশালে দুইজন করে।
এ ছাড়া ময়মনসিংহে একজন সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে মারা গেছে আরও একজন, যার মৃত্যুও ঢাকা বিভাগে রেকর্ড করা হয়েছে।
আক্রান্তের হারেও ঢাকা বিভাগ অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ৪৮৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ৪২ জন। প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এই বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৮৮ জনে, যার মধ্যে মোট ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, অন্যান্য বিভাগের মধ্যে এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ১০ হাজার ৪৫৫ জন (মৃত্যু ৪৪), রাজশাহীতে ৬ হাজার ৭৭ জন (মৃত্যু ৮২), বরিশালে ৫ হাজার ৫৭৩ জন (মৃত্যু ৩৪), খুলনায় ৪ হাজার ৮৭০ জন (মৃত্যু ২১), সিলেটে ৩ হাজার ২৯০ জন (মৃত্যু ৫৩), ময়মনসিংহে ২ হাজার ৭১৯ জন (মৃত্যু ৩৮) এবং রংপুর বিভাগে ১ হাজার ২৬৮ জন (মৃত্যু ৬) সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান ‘জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০২৬’ গত ২৫ মে পর্যন্ত জাতীয়ভাবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে সফলভাবে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। দেশব্যাপী ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১ কোটি ৮৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৫৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১০২ শতাংশ।
বিভাগীয় পর্যায়ে সিলেট বিভাগ বাদে (৯৯ শতাংশ) বাকি সব বিভাগই শতভাগের বেশি কাভারেজ অর্জন করেছে, যেখানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১০৩ শতাংশ কভারেজ অর্জিত হয়েছে।
দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন শিশু, যার বিপরীতে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ১৮ হাজার ৭৬ জন শিশুকে সফলভাবে টিকা দেওয়া হয়েছে, যার সামগ্রিক কাভারেজ ১০৬ শতাংশ। সিটি করপোরেশনের মধ্যে গাজীপুর সর্বোচ্চ ১১৩ শতাংশ কভারেজ অর্জন করেছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ১০৯ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১০৭ শতাংশ এবং খুলনায় ১০২ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হলেও রংপুর সিটি করপোরেশন ৯৮ শতাংশ কাভারেজ নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।


