রাজধানীর মৌচাক এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের রমনা থানার সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন তালুকদারকে (৫৭) হত্যা মামলার আসামি আল আমিন মাহিনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রোববার চার দিনের রিমান্ড শেষে আসামি মাহিনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার ইন্সপেক্টর আতিকুল আলম খন্দকার। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামিকে পর্যায়ক্রমে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত থাকার সত্যতা স্বীকার করলেও আসামি সুস্পষ্ট তথ্য না দিয়ে এলোমেলোভাবে মামলার ঘটনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যাদি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যা মামলার তদন্তে অত্যন্ত সহায়ক হবে। মামলার ঘটনাটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যত্যয় ঘটানোসহ স্থায়ীভাবে পলাতক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বুধবার তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিল্লাল হোসেন রমনা এলাকার আরাফাত মার্কেটে ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিদারুল ইসলাম বাবু ‘শালিসের কথা’ বলে বিল্লাল হোসেনকে আরাফাত মার্কেটের পেছনে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আসামিরা তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা লোহার রড, ক্রিকেট স্টাম্প ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এ সময় রিয়াজুল হাসান ও আল আমিন মাহিনসহ অন্য আসামিরাও হামলায় অংশ নেন।
আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে দিদারুল ইসলাম বাবু বিল্লাল হোসেনের বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় বিল্লাল হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।


