আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অপহরণ ও গুমের অভিযোগে করা একটি মামলায় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহায়েলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।
সোহায়েল এক সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ছিলেন। র্যাবে কর্মরত অবস্থায় তিনি গুমসহ বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে রয়েছে।
সরকার পরিবর্তনের পর গতবছর ১৯ আগস্ট সোহায়েলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পরদিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এক যুগের বেশি সময় ধরে নৌবাহিনীর এ কর্মকর্তা নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অপহরণ ও গুমের অভিযোগে একটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল গত ১৫ এপ্রিল সোহায়েলকে হাজির করতে আদেশ দেয়।
বুধবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে প্রসিকিউশনের আবেদনে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল প্রডাকশন ওয়ারেন্ট মূলে সোহায়েলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
ট্র্যাইব্যুনালে প্রসিকিউটসন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। আসামি সোহায়েলের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
নৌবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহায়েল ২০১০ সাল থেকে দুই বছর র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ছিলেন। বহুল আলোচিত এ কর্মকর্তা ২০২২ সালে নৌবাহিনীতে কমোডর থেকে রিয়ার অ্যাডমিরাল হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর তিনি পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। আওয়ামী লীগের সরকারের পতন হলে গত ৭ আগস্ট বন্দর চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে সরিয়ে নৌবাহিনীর ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিনের কমান্ডার হিসেবে বদলি করা হয়।


