এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে আর কোনো সমীকরণ বাকি নেই। আগের দুই ম্যাচে হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। তবুও লড়াই বাকি আছে মর্যাদা রক্ষার। ৯ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনামের ফু থো প্রাদেশিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় গ্রুপ সি’র শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবে তরুণরা।
শুরুটা আশানুরূপ হয়নি লাল-সবুজদের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক ভিয়েতনামের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে। দ্বিতীয় ম্যাচে ইয়েমেনের বিপক্ষে ছিল জয়ের বিকল্প নেই, কিন্তু দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় শুরুতেই। ম্যাচের শেষ ৩০ সেকেন্ডে গোল খেয়ে বসে বাংলাদেশ। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দল, শেষ পর্যন্ত হারের তেতো স্বাদ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।
তবে কোচিং স্টাফ এখনো আশাবাদী শেষ ম্যাচ নিয়ে। সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেছেন, ‘ইয়েমেনের বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা জিততেই নেমেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শেষ ৩০ সেকেন্ডে গোল কনসিড করে বসি। সেখান থেকে আমাদের ফিরে আসতে হবে। ছেলেরা মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমরা জানি সিঙ্গাপুরের ডিফেন্স ব্লক শক্তিশালী। অনুশীলনে আমরা সেটি কীভাবে ভাঙা যায় সেটি নিয়েই কাজ করেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের খেলার মান আস্তে আস্তে উন্নত হচ্ছে। ইয়েমেনের বিপক্ষে ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিলাম প্রথমার্ধে। বেশ কিছু ভালো সুযোগও তৈরি করেছি। সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে কে কখন প্রেস করবে, ডিফেন্সের সময় কোন জায়গাগুলোতে নজর দিতে হবে এসব নিয়েই কাজ করছি যাতে সিঙ্গাপুর আক্রমণের সুযোগ না পায়।’
শুধু কোচই নন, দলের খেলোয়াড়রাও আত্মবিশ্বাসী। অধিনায়ক শেখ মোরসালিন খোলামেলাভাবেই বলেছেন, ‘শেষ ম্যাচটা আমরা ভালো খেলছিলাম। আমরা বল দখলের লড়াইয়ে ভাল করেছিলাম কিন্তু গোল হয়নি। অনেক চান্স তৈরি করেছিলাম, কিন্তু ফুটবল তো গোলের খেলা। গোল না হলে ফলাফল পাওয়া যায় না। সেটাই হয়েছে আমাদের সঙ্গে।’
তিনি সামনে তাকিয়ে আরও বলেন, ‘৯ সেপ্টেম্বর আমাদের আরেকটা ম্যাচ আছে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে। আমরা চেষ্টা করব, যেভাবেই হোক ম্যাচটা জিততেই হবে। সবার একটাই লক্ষ্য, কালকের ম্যাচটা জিতে ইনশাআল্লাহ দেশে ফিরব।’
সামনের বছর জানুয়ারিতে সৌদি আরবে বসবে মূলপর্বের আসর। ৪৪টি দলের এই বাছাইপর্ব থেকে ১১ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও সেরা চার রানার-আপ যুক্ত হবে আয়োজক সৌদি আরবের সঙ্গে। সেই দৌড়ে বাংলাদেশ অনেক আগেই ছিটকে পড়লেও, সিঙ্গাপুরকে হারাতে পারলে তরুণদের জন্য রয়ে যাবে শেখার অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঘরে ফেরার সুযোগ।


